
যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের হিদিয়া এএনএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়ির সামনে মব সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন না করে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যদিবসে ভরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন তিনি যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবনের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং মব সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দেন। একই সঙ্গে এমপির বাসভবনে ভাঙচুরের ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি অংশের অভিযোগ, একজন শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা। কিন্তু দায়িত্বে অবহেলা করে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষকের পেশাগত নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকেন, তাহলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন শিক্ষক সমাজের আদর্শ হওয়া উচিত। তার কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন বলেন, “আমি ডিসি অফিসে কাজে গিয়েছিলাম। আমাদের কোনো পরিচালনা কমিটি নেই, তাই ছুটি নেওয়া হয়নি।”
তবে তিনি এমপির বাড়ির সামনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাকে এ ধরনের কোনো বিষয় জানানো হয়নি। যদি লিখিত অভিযোগ পাই, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দিন দীপু বলেন, “বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার জন্য কোনো লিখিত দরখাস্ত বা ছুটির আবেদন আমার জানা মতে জমা দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধিমালা রয়েছে। দায়িত্বকালীন সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নিয়ম অনুযায়ী ছুটি গ্রহণ করতে হয়। তা না করে অন্যত্র অবস্থান করলে সেটি তদন্তসাপেক্ষ বিষয় হতে পারে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা নিরুৎসাহিত হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে হিদিয়া এএনএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।