October 28, 2026, 7:51 pm
শিরোনাম :
নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ, সমর্থন জানাল ককরোচ পার্টি ১২৬৯ ভবনের মালিককে রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী, অথচ বসে থাকলেন তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষেরা আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়া গত্যন্তর নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিনস প্যান্ট ও অন্তর্বাসে পাচারের চেষ্টা, শাহজালালে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা আরব দলগুলোর চমক, তৈরি হতে পারে নেতানিয়াহুর বিদায়ের পথ ওজন কমানোর ওষুধে কমছে কসমেটিক সার্জারির চাহিদা পলাশবাড়ীতে এডিপির পৌনে ৩ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম তদন্তে কমিটি ভোটের আগের রাতে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, টাকা বিতরণের দাবি

ভবদহের সংগ্রামী নেতা রনজিৎ বাওয়ালী অসুস্থ্য

নওয়াপাড়া ডেস্ক

যে মানুষটি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভবদহের পানিবন্দি মানুষের চোখের জলকে নিজের অশ্রু ভেবেছেন, যে কণ্ঠ বারবার উচ্চারিত হয়েছে নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের দাবিতে, সেই রনজিত বাওয়ালী আজ নিজেই জীবন-মৃত্যুর এক কঠিন ¯্রােতের মুখোমুখি। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রনজিত বাওয়ালী গুরুতর অসুস্থ হয়ে যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর অসুস্থতার খবরে ভবদহের গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। গতকাল ১ জুলাই বুধবার সকালে যশোরের অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামের নিজ বাড়িতে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি। খবর পেয়ে ভবদহ আন্দোলনের সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পালসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দ্রুত তাঁকে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসার সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ভবদহ আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ ও তসলিম উর রহমান।

জানাগেছে, গত দুই মাস আগে প্রিয়তমা স্ত্রীকে হারিয়ে একাকি হয়ে পড়েন রনজিৎ বাওয়ালী। একদিকে বার্ধক্য অন্যদিকে একাকিত্ব জীবনের ভারে তিনি স্ট্রোক করেছেন বলে ধারনা স্থানীয়দের। গত ৬ মে ভোরে তার স্ত্রী কালিদাসী বাওয়ালী নিজ বাড়িতে মৃত্যু বরন করেন। রনজিত বাওয়ালীর জীবনের বড় একটি অধ্যায় জুড়ে রয়েছে ভবদহের মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম। জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকা জনপদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বছরের পর বছর ধরে আন্দোলন করেছেন।

কখনো সভা-সমাবেশে, কখনো রাজপথে, কখনো মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তিনি তুলে ধরেছেন ভবদহবাসীর বেদনা ও অধিকার আদায়ের দাবি। নিজের ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের হিসাব না কষে তিনি মানুষের দুর্ভোগকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন। তাঁর কাছে ভবদহ শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, এটি ছিল মানুষের জীবন, স্বপ্ন ও অস্তিত্বের প্রশ্ন। সংগ্রামী জীবনের পাশাপাশি রনজিত বাওয়ালী ছিলেন একজন সংগীত সাধক ও সুরকার। গ্রামবাংলার মাটি, মানুষ, প্রকৃতি ও জীবনের গল্প নিয়ে তিনি রচনা করেছেন অসংখ্য গান। তাঁর সৃষ্টিতে যেমন ফুঁটে উঠেছে সাধারণ মানুষের কথা, তেমনি তাঁর জীবনেও প্রতিফলিত হয়েছে মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তিনি নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন।

আজ সেই মানুষটির জন্য প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন ভবদহের হাজারো মানুষ। যাঁর কণ্ঠে তারা নিজেদের কথা শুনেছে, যাঁর নেতৃত্বে তারা অধিকার আদায়ের স্বপ্ন দেখেছেন সেই রনজিত বাওয়ালী আবার সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন, এটাই এখন সবার প্রত্যাশা। ভবদহের ইতিহাসে রনজিত বাওয়ালীর নাম শুধু একজন আন্দোলনকারীর নয়, এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য অধ্যায়ের নাম হয়ে থাকবে।