
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী ও প্রিয় বন্ধু ফারুক আহমদ’র মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ, তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও স্মৃতিচারণ এবং রুহের মাগফিরাত কামনায় এক ভার্চুয়াল স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ৯টায় জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এ স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মামুনুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বন্ধু আব্দুল্লাহ আল মামুন কিরণ।
স্মরণসভায় বক্তারা মরহুম ফারুক হোসেনের ছাত্রজীবনের মেধা, সততা, বিনয়, বন্ধুসুলভ আচরণ এবং মানবিক গুণাবলির কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, ফারুক আহমদ ছিলেন একজন মেধাবী, সৎ ও অমায়িক মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি যেমন সহপাঠীদের কাছে ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য বন্ধু, তেমনি কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনেও সততা ও মানবিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে সহপাঠীরা একজন প্রিয় বন্ধুকে হারিয়েছেন, যার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মো. ফরহাদ-উল-ইসলাম, মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম, মো: আবু সাঈদ, মফিজুর রহমান, মো: রায়হানুল ইসলাম, মো: মনিরুজ্জামান, মো: তাফহিমুর রহমান বাকি, মো: রইচ উদ্দিন, মো: হাফিজুর রহমান, মো: কামরুজ্জামাম শামীম, মো: আজগর আলী, মো: সিরাজুল ইসলাম, মো: ওয়াসিউল্লাহ এবং মো: আসাদুজ্জামানসহ ২০০১-০২ সেশনের আরও অনেক সহপাঠী।
স্মরণসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন মরহুম ফারুক আহমদ’র সহধর্মিণী ও তার ভাই সাইফুল ইসলাম। তারা ফারুকের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উপস্থিত বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সহপাঠীরা তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে মরহুম ফারুক হোসেনের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করা হয়।
বন্ধুদের এই ভার্চুয়াল মিলনমেলা ছিল একদিকে শোক প্রকাশের, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সহমর্মিতার এক অনন্য প্রকাশ। বক্তারা মরহুম ফারুক আহমদ স্মৃতিকে আজীবন হৃদয়ে ধারণ করার এবং তাঁর পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।