October 27, 2026, 9:26 pm
শিরোনাম :
ইসরায়েলের নির্বাচনে হারছে নেতানিয়াহুর জোট ইসরায়েলে ভোটের ফলাফলে সম্ভাব্য ৪ পরিস্থিতি কী ভাওয়াইয়া থেকে ইসলামি গান, আব্বাসউদ্দীন আজও অম্লান ওলামা অ্যালায়েন্সের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব ইনজিমামুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য সরকারের: বিদ্যুৎমন্ত্রী ঢাকা টেস্ট যেন নিজেদের প্রমাণের পরীক্ষা স্টার্কের ৬ বলে ৪ উইকেট, কেপটাউনে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন অস্ট্রেলিয়ার ফ্রান্সের পথে পথে বাংলাদেশের ‘পথের বন্ধু’ বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদ, যন্ত্রাংশ ও দুটি গাড়ি নিয়ে গেলেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে চালু হলো বিনা মূল্যে হুইলচেয়ার সেবা

অভয়নগরের ভবদহে আবারও জলাবদ্ধতা ॥ চরম বিপাকে স্থানীয়রা

মফিজুর রহমান

যশোরের দু:খ খ্যাত অভয়নগরের ভবদহ অঞ্চলে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে জলাবদ্ধতার দু:সহ যন্ত্রণা সহ্য করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষ। এখানে বছরের ৬ মাস জুড়ে পানির সঙ্গে সংগ্রাম করে তারা। বর্ষা এলে সেই দুর্ভোগ আরও বহুগুণে বেড়ে যায়। এ বছর এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে বুক বেঁধেছিল ভুক্তভোগী মানুষ। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নদী-খাল খনন হচ্ছে, কিন্তু বিধি বাম। এ বর্ষা মৌসুমের সাথে সাথে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে।
সোমবার সরেজমিনে অভয়নগরের বেদভিট, ডুমুরতলা, ধোপাদী, কোটা, দিঘলিয়া ও মণিরামপুরের কুলটিয়া, সুজাতপুর, হাটগাছ, লখাইডাঙ্গা, বাজেকুলটিয়া ঘুরে দেখা যায়, অনেক বাড়ি-ঘর, স্কুল-কলেজ ডুবেগেছে। অধিকাংশ মানুষ তাদের বাড়ি যাওয়ার জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করছে। অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলা নি¤œ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কমলেশ টিকাদার বলেন, আমাদের স্কুলের রাস্তাঘাট-স্কুলের মাঠ ডুবেগেছে। মণিরামপুর উপজেলার হাটগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালদের সহকারি শিক্ষক সোমনাথ দত্ত বলেন, আমাদের স্কুলের ৩টি ক্লাস রুম ডুবেগেছে। কুলটিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমলেশ সরকার বলেন, আমাদের স্কুলের নিচের তলা ডুবেগেছে। হাটগাছা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নারায়ন চন্দ্র মল্লিক বলেন, আমাদের বাড়ি জল উঠেছে। অনেকে গরু-ছাগল নিয়ে রাস্তায় অবস্থান করেছে।
অভয়নগর উপজেলার বেদভিটা গ্রামের হাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের বাড়ি যাওয়ার রাস্তা ডুবেগেছে। তাছাড়া নওয়াপাড়া টু মশিয়াহাটী যাওয়ার রাস্তায় ডুমুরতলা নামক স্থানের রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, এভাবে পানি বৃদ্ধি পেলে এ রাস্তা দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। এমনকি এ অঞ্চলের মানুষ বাড়ি-ঘরে বসবাস করতে পারবে না। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি এবং স্থানীয়দের অভিযোগ এ পর্যন্ত ৮০০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় হলেও প্রকৃত কাজ হয়নি, বরং সিংহভাগ অর্থ লুটপাট হয়েছে। এ বছর মনে করেছিলাম ১৩৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা (প্রায় ১৪০ কোটি টাকা) সেনাবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) যৌথ সহযোগিতায় যশোরের ভবদহ অঞ্চলের প্রধান ৫ থেকে ৬টি নদী ও তাদের সাথে সংযুক্ত খালের মোট ৮১.৫ কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন করা হচ্ছে। তারপরও এখন এ অঞ্চলের মানুষের বাড়ি, স্কুল-কলেজ, রাস্তা-ঘাট জলাবদ্ধ হয়েগেছে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ সালাউদ্দিন দিপু জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে ভবদহ এলাকার নদীগুলি পুন:খনন চলছে। আশা করা যায় খনন কাজ শেষ হলে দুর্ভোগ কমে আসবে।