স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেতার মোড় থেকে ধোপাদী চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ অংশে পিচ উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। শুকনো মৌসুমে ধুলাবালিতে একাকার হয়ে যায়, আর বৃষ্টি হলেই কাদা-পানিতে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ কোনো যানবাহনই ঝুঁকি নিয়ে সড়কটি ব্যবহার করতে চাইছে না। ফলে প্রতিদিন শত শত মানুষ বাধ্য হয়ে আধা কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পার হচ্ছেন। আবার অনেকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই সড়কটি নওয়াপাড়া পৌরসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সড়ক হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। আশপাশে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, শিল্পকারখানা ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। একই সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীদের চলাচলেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা জানান, একাধিকবার পৌরসভায় অভিযোগ জানানো হলেও কোনো দৃশ্যমান ফল পাওয়া যায়নি। শুধু আশ্বাস মিলেছে, বাস্তব কোনো সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। এতে করে দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলেও নাগরিক সেবা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
অতিষ্ঠ হয়ে ওঠা এলাকাবাসী ও পথচারীরা এবার কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা জানান, দ্রুত সড়ক সংস্কার না করা হলে পৌরকর প্রদান বন্ধ রাখবেন। পাশাপাশি দাবি আদায়ে মানববন্ধনসহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছেন। এলাকাবাসীর মতে, জনপ্রতিনিধি ও পৌর প্রশাসনের দায়িত্ব অবহেলার কারণেই এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হবে। তা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং পরিস্থিতি যে কোনো সময় বড় ধরনের আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে নওয়াপাড়া পৌরসভার সার্ভেয়ার আকরাম হাওলাদার জানান, সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ বলে আমি জানি, প্রকল্পের মধ্যে দেয়া হয়েছে বলে জানি। দ্রুত কাজ করার সম্ভাবনা আছে।
নওয়াপাড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী অসীম কুমার সোম জানান, ওই সড়কটি নিয়ে এর আগে আপনি কথা বলেছেন, যেকারনে আমি প্রকল্পের মধ্যে দিয়েছি। আরইউটিডিপি নামের একটি বড় প্রকল্প পাস হতে যাচ্ছে। আশা করি আগামী ২/৩ মাসের মধ্যে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
নওয়াপাড়া পৌরসভার সচিব সাইফুল ইসলাম জানান, পৌরসভার চলাচল অনুপযোগী সকল রাস্তা দ্রুত সংস্কার হবে।
নওয়াপাড়া পৌরসভার সদ্য যোগদানকারী সিইও আশিষ কুমার বসু জানান, সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি আপনার কাছ থেকে জানলাম, আশা করি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখব।
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ সালাউদ্দিন দিপু জানান, বেতার টু ধোপাদী চৌরাস্তা সড়কটি আমি দেখেছি। খুবই নাজুক অবস্থায় আছে সড়কটি। আমি জানতে চাইলে আমাকে জানানো হয়েছিল যে ওই রাস্তাটিতে ড্রেনের যায়গা না থাকায় কাজ করা যাচ্ছেনা। তারপরও আমি নির্দেশ দিয়েছি দ্রুত সকটির কাজ সম্পাদন করতে। আশা করি দ্রুত কাজ শুরু হবে।