
সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সময়োপযোগী শক্তিতে রূপান্তর করার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নত্তোর পর্বে সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। অধিবেশনের ১৪তম দিন সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে। এ জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, কলেবর বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষণের উন্নয়নসহ আধুনিক, দক্ষ ও সময়োপযোগী শক্তিতে রূপান্তর করার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে এমন সক্ষমতায় উন্নীত করা, যাতে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। এ লক্ষ্যে একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও আধুনিক প্রতিরক্ষানীতি প্রণয়ন, সেনাবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৌবাহিনীর মাধ্যমে সমুদ্রপথ, সামুদ্রিক সম্পদ ও ব্লু ইকোনমি সুরক্ষা এবং বিমান বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা, নজরদারি ও দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে ‘ম্যাড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশিয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি নির্বাচনি ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে সশস্ত্র বাহিনীকে মডার্ন, কুইক, সেল্ফ কনটেইন্ড, রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পন্ন বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতায় সরকার শুধু প্রচলিত অস্ত্র সংযোজনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষা এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের মতো নতুন ক্ষেত্রেও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।