June 6, 2026, 4:20 am
শিরোনাম :
নওয়াপাড়া পৌর কৃষকদলের সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলামের স্মরনসভা ও দোয়া অভয়নগরে মৎস্যচাষীদের মাঝে উপকরণ বিতরণ বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত, যুবক আটক নওয়াপাড়ায় জেজেআই মিল পরিদর্শনে এমপি গোলাম রসুল অভয়নগরে ব্যবসায়ী আনিছুর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল অভয়নগরে ব্যবসায়ী আনিসুর হত্যাকান্ডে মামলা অভয়নগরে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক আসামী হাতকড়াসহ উধাও অভয়নগরে শ্রমিকের ছদ্মবেশে কৃষকের মোটরসাইকেল চুরি! অভয়নগরে জয়েন্ট ট্রেডিংয়ের মালিককে কুপিয়ে হত্যা ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না- এমপি গোলাম রছুল

কুলটিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাঁধা!

স্টাফ রিপোর্টার:

যশোরের মণিরামপুরের কুলটিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের দীর্ঘ দিনের দাবি স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মান করা। যাতে বহিরাগতদের আনা-গোনা থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারেন। তাছাড়া প্রায় স্কুলের ছাত্রীদের বাইসাইকেল চুরি হয়। প্রাচীর নির্মান হলে স্কুলের ছাত্রীরা সবদিক থেকে নিরাপদ থাকতে পারবেন বলে জানিয়েছে ১০ম শ্রেণির ছাত্রীরা।

 

বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। কিন্তু বাঁধা দিচ্ছেন বিদ্যালয়ের জমি দখলে রাখা প্রতিবেশী চয়ন বিশ্বাস ও সমর বিশ্বাস ও অন্যান্যরা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রতিবেশি জানিয়েছেন, তারা ওই জমি দখল ছাড়বেন না। বিচার শালিশ ও জমি মাপ-জোক করে যখন দেখা যাচ্ছে তাদের দখলে স্কুলের জমি আছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও এলাকার অভিভাবকমহল যখন স্কুলের জমি ছেড়ে দিতে ও সীমানা প্রাচীর নির্মান করতে যাচ্ছেন তখনই তারা একটি মামলা করে দিয়েছে, যাতে তাদের জমি ছাড়তে না হয়।

 

এব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমলেশ সরকার বলেন, এ বিষয় নিয়ে যত বিচার-শালিস অনুষ্ঠিত হচ্ছে ততই বিদ্যালয় পক্ষের জমির কাগজপত্রের স্বচ্ছতা এলাকাবাসির কাছে প্রকাশ পাচ্ছে। কিন্তু সীমানা প্রাচীর করতে বাঁধা দিচ্ছেন ওই অবৈধ দখলদার চয়ন বিশ্বাস ও সমর বিশ্বাস ও অন্যান্যরা। প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সকল এসএ ও আরএস পর্চার দাগ, খতিয়ান ও জমির পরিমান অনলাইন ও ম্যানুয়াল (অফিসিয়াল) পর্চার সাথে মিল খুঁজে পেয়েছেন।

 

বিদ্যালয়ের মাঠ পর্চা অনুসারে এসএ ও আরএস দাগ সমূহ: (১) আরএস-৪৪৪ ও এসএ ৫৫৬, জমি-২ শতক, (২) আরএস-৪৩৫ ও এসএ-৫৫৯, জমি-৭ শতক, (৩) আরএস-৪৩৯ ও আরএস-৫৭২, জমি ১২ শতক, (৪) আরএস-৪৪১ ও এসএ-৫৭৩, ৫) আরএস-৪৪২ ও এসএ ৫৪৬, ৫৪৭, ৫৫৩, ৫৫১, ৫৫২, ৫৫৩, ৫৫৪, ৫৫৫ জমি-৬৩ শতক, (৬) আরএস ৪৪৮ ও এসএ ৫৮৬, জমি ১৬ শতক, খতিয়ান নং-৫, মোট জমির পরিমাণ ১১২ শতক।

 

তন্মধ্যে আরএস ৪৪২ দাগের ৬ শতক জমি প্রতিবেশী চয়ন বিশ্বাস ও সমর বিশ্বাস ও অন্যান্যরা ভোগ দাখল করে আসছেন। কিন্তু তাদের কোন বৈধ কাগজপত্র নাই। সর্বশেষ উত্তোলিত মাঠ পর্চা বুনিয়াদ সহ দলিল নম্বর ও দলিলের তারিখ উল্লেখপূর্বক মোট জমি ১১২ শতক।

 

এ ছাড়াও ৫৬১ এসএ দাগে ৪ শতক ও ৪৩৯ এসএ দাগে ১৬ শতক এলএস ৪৮২ মোট-২০ শতক জমি এসএ পর্যায়ে থাকলেও তা আরএস প্রিন্ট পর্যায় আসেনি। বিদ্যালয়ের আরএস ৬ টি দাগে ১১২ শতক জমি, ১ ও ১ খতিয়ানে ৪ শতক (দাগ ৫৩৭), ১ খতিয়ানে ১০ শতক (দাগ ৫৩৮) মোট ১২৬ শতক জমি বিদ্যালয়ের চত্ত¡রে অবস্থিত।

 

তন্মধ্যে ৬ শতক জমি বেদখল, অর্থাৎ ১২০ শতক দখলে আছে। এসএ ৫৫১ দাগ, এলএস ৪৩৯ এর ১৪ শতকের জমির ১০ শতক স্কুলের বাকি ৪ শতক সম্ভবত উত্তর পাশে সীমানার বাইরে পুকুরে অবস্থিত। কিন্তু আরএস ৪৪৭ দাগে নয়। প্রতিবেশী চার জনের আরএস দাগ ৪৪৭, খতিয়ান ৩৯৯, ৫৫৪ জমির পরিমাণ ৬৬ শতক, কিন্তু দখলে আছে ৭২ শতক।

 

তাদের বৈধ কাগজপত্র আছে ৪৯ শতকের। এরমধ্যে মনোরঞ্জন বিশ্বাসের ১২ শতক, খতিয়ান-৪৫৮/১ (২) শিমুল বিশ্বাসের ১২ শতক, খতিয়ান ৫৫৪ ও মানিক মন্ডল স্ত্রী বিরক্তি দাসী ২৫ শতক, খতিয়ান ৩৯৯, বাকি ১৭ শতক জমি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কালেক্টর, যশোর (খতিয়ান-১/১)। এই ১৭ শতক সরকারি খার জমির উপর একটি পরিবারিক কালী মন্দির স্থাপন করা হয়। সেটি সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য এলাকাবাসীর জোর দাবি। কোন খাস সম্পত্তি ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারেনা। তাই সরকারের অনুমতিক্রমে সাধারণ জনগণ উন্মুক্তভাবে মন্দিরটি ব্যবহার করতে চান।

 

বিদ্যালয়ে ঢোকার রাস্তার পাশে প্রতিবেশীদের জমি ১৩.৫ ফুট লম্বা, যদি ৫৬ ফুট চওড়া রাস্তা করে দেয়া হয় তবে তাদের চলাচলের ব্যবস্থা হয়। এব্যাপারে চয়ন বিশ্বাস জানায়, এই জমির বিষয়ে ১৫ নং কুলটিয়া ইউনিয়নের বর্তমান প্রশাসক পরিষদে নিয়ে বসেছিলেন, সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, উভয় পক্ষ কাগজপত্র ও মাপ-জোকের জন্য আমিন নিয়ে আসবেন। যে যেখানে জমি পাবে সে সেখানে সীমানা প্রাচীর করবে। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে আর কোন উদ্যোগ গ্রহন করেন নি। অপরদিকে বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে বেশ কয়েক ঘর দাতা শ্রেণীর লোকজন আছেন।

 

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে তাদের সাথে মৌখিক কথা ছিল যে, যতদিন সমস্যা থাকে ততদিন তাদের চলাচলের পথ দিতে হবে। তাই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত তাদের অবদানের কথা বিবেচনা করে ও ভালো পথ না থাকার কারণে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের সভাপতি। কিন্তু উত্তর-পূর্ব পাশের প্রতিবেশীরা কেউ দাতা নন, তবে তাদের অবদান আছে। তাদের ৫ থেকে ৬ ফুট রাস্তা তৈরি করে পাকা রাস্তায় ওঠা সম্ভব। যেহেতু এই সুযোগ আছে এবং বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গেটবিহীন প্রাচীন নির্মাণ করা সঠিক কাজ বলে কর্তৃপক্ষ মনে করেন।

 

তাই মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৫ নং কুলটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর প্রশাসককে সুপারিশ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। তিনি এটা গ্রাম আদালতে প্রেরণ করেন। সেটি গ্রাম আদালতে বিচারাধীন আছে। এব্যাপারে কুলটিয়া ইউপি প্রশাসক রাজু আহম্মেদ বলেন, আমি উভয় পক্ষেকে ডেকেছিলাম, তাদের এক পক্ষ বলতে চায় তাদের দখলে কয়েক শতক সরকারি খাস জমি আছে, তা তারা বাপ-দাদার আমল থেকে দখলে আছে।

 

অপরদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রাচীর দিতে চায় কিন্তু তাদের চলাচলের রাস্তা দিতে চায় না। আমি আবারও উভয় পক্ষকে ডাকবো। এবার তারা আপস না করলে আমি গ্রাম আদালতের সিদ্ধান্তে একটি মতামত পাঠিয়ে দেব। প্রশাসনের প্রতি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবক মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য একটি প্রাচীন তৈরি করা হোক।