
যশোরের অভয়নগরে নওয়াপাড়া বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান হ/ত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম শুক্রবার (৭মে) রাতে বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় মামলাটি করেন। মামলার নম্বর-৮। এতে শাহ মাহমুদসহ এজাহারভুক্ত ২ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের পীরবাড়ি মাদরাসা সংলগ্ন আনিছ ট্রেড ভ্যালি মার্কেটের সামনে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হন আনিসুর রহমান (৬৭)। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আনিসুর রহমান সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভয়নগরের গুয়াখোলা গ্রামে বসবাস করে নওয়াপাড়া বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি সার আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের ব্যক্তিগত ম্যানেজার রেজাউল করিম মিষ্টি ও স্যানিটারি মিস্ত্রি আলমগীর কবীর বলেন, ঘটনার সময় স্যার নিজ মার্কেটের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পীরবাড়ির সন্তান শাহ্ মাহমুদের নের্তৃত্বে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন যুবক সেখানে এসে একটি ঘর ভাড়া দেওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে একটি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুর রহমানের মুখমণ্ডলে আঘাত করে পালিয়ে যায় সে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৪ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে অভয়নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, মামলাটি রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।