September 13, 2026, 11:07 pm
শিরোনাম :
অভয়নগরে যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার অভয়নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করলেন এমপি গোলাম রসুল অভয়নগরে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত অভয়নগরে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে এ+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অভয়নগরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন প্রশাসনের উদাসীঅভয়নগরে দুই দোকানের টিন কেটে চুরি অভয়নগরে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল পরিষ্কারে এলাকাবাসী, পরিদর্শনে এমপি গোলাম রসুল আমডাঙা খালে কচুরিপানা অপসারণে স্বেচ্ছাশ্রম : সংস্কারের দাবি নওয়াপাড়ায় জামায়াতের গণসমাবেশ ও গণমিছিল : জুলাইয়ের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান অভয়নগরে বিএনপির নেতৃত্বে মিছিল অনুষ্ঠিত

নড়াইল সদর হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাফি কেলেংকারি : ডাঃ গফফারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

স্টাফ রিপোর্টার

নড়াইল সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আব্দুল গফফারের বিরূদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, অন্যায়, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য এসব অভিযোগ অনেক আগে থেকেই। তিনি নড়াইল সদর হাসপাতালে যোগদান করেই এ হাসপাতালটিকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ পথে অর্থ উপার্জনের আখড়া বানিয়েছেন। জনগনকে সেবা দেয়ার মত কোন মানসিকতা তার মধ্যে নাই। কেবলমাত্র টাকা আয়ের ধান্দা তার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায়। আর সেই ধান্দাবাজি করতে গিয়ে সকল ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। দুর্নীতিবাজ টাউট ডাক্তার ও কর্মচারীদের সাথেই তার গভীর সখ্যতা।

এ হাসপাতালে কয়েকজন পাল্টিবাজ ডাক্তার ও দুর্নীতিবাজ কর্মচারী রয়েছেন। যারা যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সেই সরকারের লোক বনে যান। তারাই মুলত: এই টাউট অর্থ পিশাচ ডাক্তার নামের কসাই আব্দুল গফফারের দুর্নীতি অনিয়মের সহযোগিতাকারী। ওই টাউটরা নিজেরা অন্যায় সুবিধা নেয়ার জন্য তার চামচামি করেন ও সকল পাপ কাজে সাহায্য করেন। দুর্নীতিবাজ তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আব্দুল গফফারের সাথে তাল মিলিয়ে তারা বছরের পর বছর এখানে চাকুরী করছেন। তারা হাসপাতাল বাদ দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ পান দুর্নীতিবাজ তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আব্দুল গফফারের চাটুকারিতা করে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আশির্বাদপুষ্ট স্থাণীয় সাবেক সংসদ সদস্য পরিবারের ডাক্তার বনে যান দু’জন চাটুকার চিকিৎসক। তারা এখন আবার ভোল পাল্টেছেন। সেই সময় তারা যেভাবে সরকারি দলের দাপট দেখাতেন। ঠিক সেই ভাবে আবার এখন সরকারি দলের দাপট দেখাচ্ছেন। তাদের ইশারায় পুতুলের মত নাচছেন ঘুষখোর তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আব্দুল গফফার। তাদের সহযোগিতায় সমানে দুর্নীতি অনিয়ম অন্যায় অব্যহত রেখেছেন। নির্লজ্জ ওই ডাক্তার কর্মচারীদের সহায়তায় ধুমছে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আব্দুল গফফার। সরকারি হাসপাতালের মূল্যবান ঔষধ ও মালামাল চুরি করে নিজের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে ব্যবহারের গুঞ্জণ রয়েছে তার বিরূদ্ধে। বর্তমান সময়েও তার স্বেচ্ছাচারিতা থেমে নেই। তার দুর্নীতি অন্যায় অনিয়মের বিরূদ্ধে সংশিষ্ট দপ্তরে একাধিক ব্যক্তি একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু কোন কার্যকর পদক্ষেপ তার বিরূদ্ধে নেয়া হয়নি।
তবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রিয় নির্বাহী সদস্য মাহমুদা সুলতানা রিমি কর্তৃক এ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরূদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক বরাবর দেয়া আবেদনের প্রেক্ষিতে তার বিরূদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরের দিকে সরজমিন নড়াইল সদর হাসপাতালে তদন্তে আসেন তদন্ত দল। তদন্ত দলের প্রধান ছিলেন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং তদন্ত কমিটির সভাপতি ডাঃ অসীম কুমার সরকার।

অভিযোগ রয়েছে কর্মক্ষেত্রে ন্যায়-অন্যায় বিবেচনা না করে নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য অর্থ লিপ্সু তত্ত্বাবধায়ক তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব উপেক্ষা করে হাসপাতালের নিচে অবস্থিত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরএইচস্টেপে আল্ট্রাসনোগ্রাম কাজে নিজেকে অধিকাংশ সময় নিয়োজিত রাখেন। আল্ট্রাসনোগ্রামে তেমন অভিজ্ঞতা না থাকলেও অর্থের লোভে দাপ্তরিক কাজ ফাঁকি দিয়ে নিয়মবর্হিভূতভাবে ওই কাজ করে সংস্থা থেকে নিয়মিত কমিশন গ্রহণ করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে রোগী, হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সসহ অন্যান্য ষ্টাফদের মধ্যে ঘৃনা ও ক্ষোভ বিরাজ করলেও চাকরি হারানো কিংবা শাস্তির ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এছাড়া হাসপাতালে সিজার কিংবা অন্য কোন সার্জারী সংক্রান্ত রোগীর কাছ থেকে তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশে ৫শ’ থেকে ১হাজার টাকা অবৈধভাবে নেয়া হয়ে থাকে। গরীবের শেষ ভরসা সরকারি হাসপাতালে গিয়ে অসহায় মানুষকে অপারেশন থিয়েটারের জন্য টাকা দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়তে শোনা গেছে। হাসপাতালে আউটসোর্সিং ঠিকাদার ও কর্মচারী নিয়োগে তত্ত্বাবধায়ক বড় ধরনের দূর্নীতি ও অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালে বিভিন্ন রোগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষার অর্থ হতেও তিনি সুকৌশলে নির্ধারিত কমিশন নিয়ে থাকেন তিনি। হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ, খাদ্য, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, কেমিক্যাল, এসি মেশিন, আসবাবপত্রসহ টেন্ডারের মাধ্যমে ক্রয় করা বিভিন্ন মালামালে পছন্দের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা তত্ত্বাবধায়ক গ্রহণ করে থাকেন। এ কারণে ঠিকাদার খারাপ ও নিম্নমানের খাবার ও মালামাল সরবরাহ করেন। উৎকোচ নিয়ে নি¤œমানের মালামাল গ্রহন করায় অনেক মালামাল শুরুতেই বিকল বা নষ্ট হয়ে গেছে।