November 5, 2026, 1:43 pm
শিরোনাম :
অপসাংবাদিকতা’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন বরাবর নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের স্মারকলিপি পদত্যাগের বিষয়ে ফেসবুক পোস্টে যা বললেন সামান্তা শারমিন মানিক মিয়াতে জেমসের ফ্রি কনসার্ট, থাকছে আরও ছয় ব্যান্ড জলপাই সংগ্রহে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ালেন ইসরায়েলের সাবেক জেনারেলরা এএসপি হলেন পুলিশের ৬৭ পরিদর্শক ফের বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম, রাতেই কার্যকর ম্যাচের আগে কার সঙ্গে দেখা করলেন মেসি খুলনা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ইউরোপের ১০ দেশের সুপারমার্কেটের ফ্রিজারে সাইবার হামলা, সতর্ক অবস্থায় আরো অনেকে

পদত্যাগের বিষয়ে ফেসবুক পোস্টে যা বললেন সামান্তা শারমিন

Reporter Name

রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শার্মিন। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দলের জোট গঠন এবং রাজনৈতিক কৌশলগত অবস্থানের বিরোধকে কেন্দ্র করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করে তিনি নিজের পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে দলের অভ্যন্তরে মতাদর্শিক লড়াই চালিয়ে গেলেও দলের বর্তমান গতিপথের সঙ্গে নিজের আদর্শের মিল না থাকায় তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানান।

সামান্তা শার্মিন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রায় এক বছর আগে থেকেই জামায়াতের সঙ্গে জোট বাঁধার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন তিনি। তাঁর মতে, জামায়াতে ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনো দিক থেকেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় এবং এই দলটির সঙ্গে জোট করার কারণে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে চড়া মূল্য চুকাতে হবে। দলীয় ফোরামে বারবার লিখিত প্রস্তাব ও আলোচনার মাধ্যমে এই ভুল সিদ্ধান্ত থেকে দলকে ফেরানোর চেষ্টা করলেও কোনো সুফল মেলেনি। ফলে দলের প্রাথমিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে আপস না করার কারণেই তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন।

রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন এই রাজনীতিক। তিনি জানান, সাংবিধানিক, আইনি এবং রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া দেশের প্রকৃত গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব নয়, যা জামায়াতের রাজনৈতিক দর্শনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। কিন্তু জাতীয় নাগরিক পার্টি সেই মৌলিক আদর্শ থেকে সরে এসে পুরোনো রাজনৈতিক ধারার দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যা মূলত অভ্যুত্থানোত্তর নতুন রাজনীতির সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। পুরোনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দলগুলো কখনোই নতুন রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দলের নির্বাচনী কৌশল ও সার্বিক রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে সামান্তা শার্মিন জানান, রাজনৈতিক বিজয়ের চেয়ে নির্বাচনী সুবিধা পাওয়ার মানসিকতা দলকে দুর্বল করেছে। বড় কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি না করে নিজস্ব স্বতন্ত্র রাজনীতি নিয়ে এগিয়ে গেলে দল আরও ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারত বলে তিনি বিশ্বাস করেন। পরিশেষে তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে যে দলের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং দলীয় কাঠামোর বাইরেও সাধারণ শুভানুধ্যায়ীদের কাছে এই সত্য তুলে ধরা তাঁর নৈতিক দায়িত্ব ছিল।