July 28, 2026, 6:58 pm
শিরোনাম :

দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক হাজারো মানুষের দুর্ভোগ !

ফয়সাল আহমেদ, ঝিনাইদহ

মাত্র দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কই হয়ে উঠেছে কয়েক হাজার মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ। মৌসুম যাই হোক, বছরের প্রতিটি দিনই এই সড়কে চলাচল করা মানে যেন ঝুঁকি আর কষ্টের সাথে যুদ্ধ করে পথ পাড়ি দেওয়া। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই এই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তখন গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাই যেন থমকে দাঁড়ায়। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী নারী-পুরুষ, কৃষক কিংবা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা-সবকিছুতেই দেখা দেয় দুর্বিষহ পরিস্থিতি।

 

এমন দুর্ভোগ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ইটালি গ্রামে। গ্রামটিতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে অবহেলা আর দুর্ভোগের চিত্র। কাঁচা সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, কোথাও ধ্বসে গেছে রাস্তার ধাপ। বর্ষায় সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদায় পরিণত হয়। তখন হাঁটা-চলা তো দূরের কথা, সাইকেল, মোটরসাইকেল কিংবা রিকশা-কোনো যানবাহনই এই পথে চলতে পারে না। ফলে এলাকার মানুষ বাধ্য হয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করেন। এতে সময়, শ্রম ও অর্থ-সবকিছুই বাড়ে কয়েকগুণ।

 

সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন আগুনিয়াপাড়া, সিংনগর, বেনিপুর, হড়রা, দিগনগরসহ কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষের যাতায়াত। স্থানীয়রা জানান, বর্ষার সময় অসুস্থ্য রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হয় একপ্রকার জীবনের ঝুঁকি নিয়েই। অনেক ক্ষেত্রে কাঁধে বয়ে বা খাটিয়া করে রোগী নিয়ে যেতে হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এতে সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা,যা অনেক রোগীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। কাদা আর গর্তে ভরা রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গিয়ে প্রায়ই পড়ে যায় শিক্ষার্থীরা। অনেকেই ভয়ে বর্ষার কয়েক মাস স্কুলে যেতে পারে না।

 

স্থানীয়দের ক্ষোভ, বারবার দাবি, তবুও সড়কটি অপরিবর্তিত। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই রাস্তার বিষয়ে বহুবার চেয়ারম্যান-এমপিদের বলেছি। তারা শুধু আশ্বাস দেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। বর্ষায় রাস্তায় হাঁটা মানেই পড়ে যাওয়া। রোগী নিয়ে গেলে ভাবতে হয়-হাসপাতালে পৌঁছানো যাবে কি না।’ স্থানীয় নারী হাসিনা বেগম বলেন, বর্ষাকালে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে।

 

এটা কোনো যুগের রাস্তা? কতবার বলেছি রাস্তা নির্মাণের জন্য, তবুও কর্ণপাত করে না কেউ।’ কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘ফসল নিয়ে বাজারে যেতে পারি না এই রাস্তায়। ভ্যান আসে না। বাধ্য হয়ে অন্য একটা রাস্তায় ঘুরে যেতে হয়। এতে একদিকে সময় বাড়ে, অন্যদিকে খরচও বাড়ে। দেরি কওে বাজাওে যাওয়ায় ফসলের দাম ভাল পায়না। অনেক সময় ফসল নষ্ট হয়ে যায়।’ স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার আবেদন করা হয়েছে সড়কটি পাকাকরণের জন্য। পাশাপাশি বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিকেও অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু তাদের দাবির কোনো বাস্তব অগ্রগতি আজও দৃশ্যমান হয়নি।

 

স্থানীয়রা জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেটে এই সড়কটির নাম অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস মিললেও কাজের কাজ এখনো হয়নি। বরং দিন যত যাচ্ছে, রাস্তার অবস্থা ততই আরও চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠছে। ইটালি গ্রামবাসী বলছে, মাত্র ২ কিলোমিটার সড়ক পাকা না হওয়ায় তারা যেন বিছিন্ন এক দ্বীপে পরিণত হয়েছেন। রাস্তা পাকা হলে শুধু ভোগান্তি কমবে না, এলাকার কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থায় গতি আসবে। মানুষের জীবনযাত্রা যেমন সহজ হবে, তেমনি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে যাবে।

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি)’র শৈলকুপা উপজেলা প্রকৌশলী রাকিব হাসান বলেন, ‘কাঁচা সড়কটি নির্মাণ করতে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলগামী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে এডিপিভুক্ত (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) করা হয়েছে। প্রকল্প পাস হলেই কাজ শুরু হবে।’