October 28, 2026, 11:17 am
শিরোনাম :
স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙায় পাঠ্যবই মুদ্রণে বাঁচল ১৪ কোটি টাকা স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন হৃদয় এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের মেয়েদের সোনা জয় গাজা-লেবানন-সিরিয়ায় দখল বজায় রাখা, ইরানকে দুর্বল করা: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনই ইসির সক্ষমতার পরীক্ষা: ১১ দলীয় ঐক্য

মাদ্রাসায় নিয়োগের বৈঠক ইটভাটায়, ঘুষের অভিযোগ

Reporter Name

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে বড় অংকের ঘুষ নিয়ে গোপনে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলার বালারচর নাছিরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় শূন্য পদে লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছুটির দিনে মাদ্রাসার ভেতরে বহিরাগত ও চাকরিপ্রার্থীদের সন্দেহজনক উপস্থিতি লক্ষ্য করে তারা ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন যে কোনো ধরনের দৃশ্যমান প্রকাশনা বা প্রচার ছাড়াই অত্যন্ত গোপনে একটি নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের পাঁয়তারা চলছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং অধ্যক্ষ যোগসাজশ করে অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছিলেন। স্থানীয়দের একটি সূত্র দাবি করেছে যে, ল্যাব সহকারী, অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে মোট পাঁচজনকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ছুটির দিনে এমন গোপন তৎপরতা এবং লাখ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পরই স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং স্থানীয়দের কড়া প্রতিবাদের মুখে নিয়োগ কমিটির সদস্যরা তড়িঘড়ি করে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি মাঝপথে বাতিল না করে তারা ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ধামশ্রেণী ইউনিয়নের সাতকুড়া এলাকার একটি স্থানীয় ইটভাটায় গিয়ে মিলিত হন। সেখানে বসে অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে তারা নিয়োগ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা ও সভার বাকি কাজ শেষ করেন। পরবর্তীতে বিকেলে ওই ইটভাটার মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট পাঁচটি শূন্য পদে নতুন লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এই পুরো ঘটনা প্রসঙ্গে মাদ্রাসার বিদ্যোৎসাহী সদস্য নুরুন্নবী বাসার অভিযোগ করে জানান যে, এই নিয়োগ পরীক্ষা বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁকে বিন্দুমাত্র জানানো হয়নি। এর আগেও একই কায়দায় গোপনে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও নিয়োগ কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা মোবাশ্বের রাশেদিন দাবি করেন যে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের পরই ১৭ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে পাঁচজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আর স্থানীয় লোকজনের হট্টগোল ও বাধার মুখেই তারা বাধ্য হয়ে ইটভাটায় বসে পরবর্তী আলোচনা ও সমন্বয় করেছেন বলে জানান।