October 28, 2026, 10:14 am
শিরোনাম :
স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন হৃদয় এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের মেয়েদের সোনা জয় গাজা-লেবানন-সিরিয়ায় দখল বজায় রাখা, ইরানকে দুর্বল করা: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনই ইসির সক্ষমতার পরীক্ষা: ১১ দলীয় ঐক্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কাল, নিরাপত্তায় ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড বল প্রয়োগের শক্তিই হলো ‘বলের মাত্রা’ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে এবার উচ্চপর্যায়ের কমিটি গাজীপুর কর অঞ্চলে চাকরি, পদ ৩৪ মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান

Reporter Name

রাজনীতি ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা ব্যারিস্টার আরমান। গত বছর সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান এবং ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে দেশের সার্বিক শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। দীর্ঘ আট বছর গুম থাকার ব্যক্তিগত বঞ্চনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, ক্ষমতার কার্যকর নিয়ন্ত্রণহীনতা একজন নাগরিক ও ভিন্নমত পোষণকারীকে কীভাবে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়, তা তিনি খুব ভালো করেই জানেন। রাষ্ট্রে জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল অতীতের দমনমূলক ধারা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব বলে মনে করেন এই আইনজীবী।

দেশের আইনি কাঠামো ও সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যারিস্টার আরমান জানান, বর্তমান ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রয়েছে, যা অল্প কিছু মানুষের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। এই অবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে মিরপুর এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি এমন একটি জনপদের প্রতিনিধিত্ব করেন, যেখানে বহু মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করেন এবং জীবনযাত্রার মান অনেক গ্রামীণ এলাকার চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রকৃত পরিবর্তনের আশায় তাঁকে ভোট দিয়েছেন এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার ওপর জনগণের কোনো আস্থা নেই বলে জানান তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি জানান, সরকার পরিবর্তনের পরও পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও মানসিকতা পুরোপুরি দূর হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সংস্কারের কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখা গেলেও বর্তমান প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে লেনদেননির্ভর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছে। সরকারি কর্মকাণ্ড বা নীতির সমালোচনা করার কারণে ইতোমধ্যে কতিপয় অনলাইন কর্মীকে আটকের ঘটনা প্রমাণ করে যে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ বজায় থাকলে আইনি সংস্কারের মূল উদ্যোগগুলো থমকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বিএনপির সঙ্গে দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, অতীতে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় তারা একসঙ্গে আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন। বর্তমান সংসদে একটি দল সরকারে এবং অন্যটি বিরোধী দলে থাকলেও তাদের মধ্যে নিয়মিত ও কার্যকর যোগাযোগ বজায় রয়েছে। তবে তৃণমূল পর্যায়ে বিরোধী দলকে নানাভাবে কোণঠাসা করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে সংসদীয় এলাকায় সরকারি অনুদান বণ্টন থেকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করার মতো ঘটনা মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে বলে জানান এই রাজনীতিবিদ।