October 28, 2026, 3:03 pm
শিরোনাম :
কানাডা ও রাশিয়া থেকে ৭০৯ কোটি টাকার সার কিনবে সরকার ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ, জামিনে মুক্ত সেই নারী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে অভয়নগরে জামায়াতের বিশাল মিছিল অভয়নগরে ২৮ অক্টোবর উপলক্ষে জামায়াতের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বোঝা যায় তলেতলে একটা খাতির ছিল: বিএনপি-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত গোলাম পরওয়ারের সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল দিতে বাড়তি টাকা কোথা থেকে আনছে সরকার? নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজের কারণে মস্তিষ্কের যে ধরনের ক্ষতি হয় ‘আওয়ামী স্টাইলে দেশ চালাতে চাইলে পরিণতিও তাদের মতোই হবে’ দক্ষ জনশক্তি গড়তে কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে বললেন রাষ্ট্রপতি

পরোয়ানাকে জামিননামা ভেবে আসামিকে মুক্তি

Reporter Name

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ভুলবশত মো. রুবেল ওরফে রবি নামের এক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। কারাগারে থাকা অবস্থায় ওই আসামিকে আদালতে হাজির করার একটি প্রোডাকশন ওয়ারেন্টকে ভুলবশত জামিননামা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নথিপত্র সঠিকভাবে যাচাই না করেই কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে মুক্তি দিয়ে দেয়, যা নিয়ে চারদিকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনার প্রায় দশ দিন পর পুলিশি অভিযানে ওই আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কারাগারের নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট নগরের সদরঘাট থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান রুবেল। পরবর্তীতে কারাবন্দী থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আরও দুটি মামলায় তাঁকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে সম্প্রতি আদালত তাঁর দুটি মামলার জামিন মঞ্জুর করলেও অন্য একটি মামলায় তাঁকে আদালতে হাজির করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। কিন্তু কারাগার থেকে মুক্তির সময় এই ওয়ারেন্টকেই জামিননামা হিসেবে ভুল করা হয় এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথিতেও তা লিপিবদ্ধ করা হয়।

এই ঘটনার পর কারা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও চরম গাফিলতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল। সাধারণত কারাগার থেকে কোনো বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার আগে ওয়ার্ড মাস্টার, ডেপুটি জেলার এবং সিনিয়র জেল সুপারসহ একাধিক স্তরে নথিপত্র কঠোরভাবে যাচাই করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কোনো স্তরেই এই মারাত্মক ভুল ধরা না পড়াকে বড় ধরনের প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারত এবং সমাজে বড় ধরনের অপরাধ ঘটার আশঙ্কাও থাকত।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে গত শুক্রবার রাতে নগরের পশ্চিম মাদারবাড়ী এলাকা থেকে রুবেলকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল পুলিশকে জানান যে তিনি ভেবেছিলেন তাঁর সব মামলারই জামিন হয়ে গেছে এবং বৈধ ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই তিনি কারাগার থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। এদিকে কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা নতুন হওয়ায় এবং ফরমগুলোর বিন্যাস প্রায় একই রকম হওয়ায় এই অমার্জনীয় ভুলটি হয়েছে।