October 28, 2026, 2:48 pm
শিরোনাম :
ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ, জামিনে মুক্ত সেই নারী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে অভয়নগরে জামায়াতের বিশাল মিছিল অভয়নগরে ২৮ অক্টোবর উপলক্ষে জামায়াতের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বোঝা যায় তলেতলে একটা খাতির ছিল: বিএনপি-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত গোলাম পরওয়ারের সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল দিতে বাড়তি টাকা কোথা থেকে আনছে সরকার? নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজের কারণে মস্তিষ্কের যে ধরনের ক্ষতি হয় ‘আওয়ামী স্টাইলে দেশ চালাতে চাইলে পরিণতিও তাদের মতোই হবে’ দক্ষ জনশক্তি গড়তে কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে বললেন রাষ্ট্রপতি ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির আপাতত পরিকল্পনা নেই, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে রাশিয়ায় জ্বালানি পাঠানোর তথ্য ফাঁস

Reporter Name

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেন সংঘাত চলমান থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে রাশিয়ায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পাঠানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বন্দর ও জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিভিন্ন নথির বিশ্লেষণে জানা গেছে, এই বাণিজ্যের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত বেশ কিছু ট্যাংকারও ব্যবহার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে আসা এই তথ্য বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত জুলাই ও আগস্ট মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন বন্দর থেকে প্রায় এক লাখ ৭৬ হাজার টনের বেশি জ্বালানি বা ডিজেল বোঝাই করা হয়। এসব জ্বালানি পরিবহনের জন্য মোট সাতটি ট্যাংকার ব্যবহার করা হয়েছে যা রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরগুলোর উদ্দেশ্যে মোট চৌদ্দটি ট্রিপ সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে অন্তত তিনটি জাহাজ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার কালোতালিকাভুক্ত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ‘লায়লা’ এবং ‘অ্যাস্টরিয়া’ নামের ট্যাংকারগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দর থেকে সরাসরি ডিজেল বোঝাই করে রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে পৌঁছে দেয়। এছাড়া ‘ছংছং’ নামের আরেকটি অবরুদ্ধ জাহাজ সমুদ্রের মাঝখানে অন্য একটি জলযানের কাছ থেকে জ্বালানি বুঝে নিয়ে রাশিয়ার দিকে রওনা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝসমুদ্রে এ ধরনের জাহাজ বদল বা শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার মূলত পণ্যের মূল উৎস গোপন করার একটি সুকৌশলী পদ্ধতি।

ফিনল্যান্ডভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের বন্দর থেকে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাংকারে করে রাশিয়ায় জ্বালানি পাঠানোর ঘটনা অত্যন্ত বিস্ময়কর। এই ধরনের বাণিজ্য কার্যক্রম একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, অন্যদিকে ইউক্রেনের পক্ষে সিউলের অবস্থানকেও কূটনৈতিক সংকটের মুখে ফেলছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ শোধনাগারগুলোতে উৎপাদন হ্রাসের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এই আমদানির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গেছে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার আইনি কাঠামোর আওতায় এই জ্বালানি চালান সরাসরি অবৈধ না হলেও, বিষয়টি পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা কৌশলকে দুর্বল করে দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোরভাবে বজায় রাখছে। তবে সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহ থেকে সিউল বিরত থাকায়, রাশিয়ায় জ্বালানি রপ্তানির এই নতুন তথ্য পশ্চিমা মিত্রদের কাছে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থানকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে।