October 28, 2026, 11:03 am
শিরোনাম :
জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙায় পাঠ্যবই মুদ্রণে বাঁচল ১৪ কোটি টাকা স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন হৃদয় এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের মেয়েদের সোনা জয় গাজা-লেবানন-সিরিয়ায় দখল বজায় রাখা, ইরানকে দুর্বল করা: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনই ইসির সক্ষমতার পরীক্ষা: ১১ দলীয় ঐক্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কাল, নিরাপত্তায় ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড

তরুণদের বিক্ষোভ ঘিরে রণক্ষেত্র নয়াদিল্লি

Reporter Name

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়। ককরোচ জনতা পার্টির পূর্বঘোষিত এই সমাবেশ প্রতিহত করতে দিল্লি জুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুরো শহরজুড়ে ব্যারিকেড, কাঁটাতারের স্পাইক স্ট্রিপ বসানো এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় অনেকে এই পরিস্থিতিকে অঘোষিত জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অন্যান্য কমিশনারদের মতামত উপেক্ষা করে এককভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ তুলে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

বিক্ষোভ দমন করতে দিল্লি পুলিশ নজিরবিহীন সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্তত সাত হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের তালিকায় ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার মানিক সরকার। এছাড়া সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, প্রবীণ নেত্রী বৃন্দা কারাত, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। আন্দোলন কভার করতে যাওয়া বেশ কয়েকজন সাংবাদিক এবং সংহতি প্রকাশ করতে আসা ব্যক্তিদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি।

আন্দোলন দমন করতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যন্তর মন্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করে সব ধরনের জমায়েত, মিছিল ও সড়ক অবরোধ নিষিদ্ধ করা হয়। নিরাপত্তার অজুহাতে দিল্লির প্রায় অর্ধশত মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয় এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে রাজধানীতে যানবাহন প্রবেশে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। ট্রেন চলাচলও সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছিল, যাতে দূরদূরান্ত থেকে কেউ বিক্ষোভে যোগ দিতে না পারেন। এসব বাধা পেরিয়ে কিছু বিক্ষোভকারী যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেয়।

দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে এই আন্দোলন ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ব্যাঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্ক, মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দান, চেন্নাই, চণ্ডীগড়, কলকাতা, পাটনা ও হায়দরাবাদে শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সংহতি প্রকাশ করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেন। মুম্বাইয়ে বিক্ষোভ থেকে প্রায় চার শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়। এদিকে সব বাধা এবং ধরপাকড় সত্ত্বেও ককরোচ জনতা পার্টি ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছে এবং পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে পুনরায় মিছিল করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।