October 28, 2026, 2:46 pm
শিরোনাম :
ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ, জামিনে মুক্ত সেই নারী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে অভয়নগরে জামায়াতের বিশাল মিছিল অভয়নগরে ২৮ অক্টোবর উপলক্ষে জামায়াতের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বোঝা যায় তলেতলে একটা খাতির ছিল: বিএনপি-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত গোলাম পরওয়ারের সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল দিতে বাড়তি টাকা কোথা থেকে আনছে সরকার? নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজের কারণে মস্তিষ্কের যে ধরনের ক্ষতি হয় ‘আওয়ামী স্টাইলে দেশ চালাতে চাইলে পরিণতিও তাদের মতোই হবে’ দক্ষ জনশক্তি গড়তে কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে বললেন রাষ্ট্রপতি ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির আপাতত পরিকল্পনা নেই, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

বিদেশি অপারেটরের হাতে বন্দর, ক্ষুব্ধ শ্রমিক সংগঠনগুলো

Reporter Name

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল অর্থাৎ এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দীর্ঘ মেয়াদে বিদেশি কোনো অপারেটরকে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বন্দরভিত্তিক বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। সরকারের এই নীতিগত অনুমোদনের পর থেকেই শ্রমিক ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা এর বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। শ্রমিক নেতাদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালটি দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় জনবল ও ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে।

এর আগে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পেশ করা প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এই টার্মিনাল এবং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপারেটরকে দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি কাঠামোর আওতায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে এবং দুবাইভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। যদিও সাম্প্রতিক অনুমোদনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এটি বাস্তবায়িত হলে বন্দর ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি এবং শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন সরকারের এই উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে। বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার মনে করেন, কোনো একটি মহলের প্ররোচনায় সরকার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে এই চুক্তি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ চলবে। এছাড়া বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির একে একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে বন্দর তুলে দেওয়ার এই প্রক্রিয়া থেকে সরকারের অবিলম্বে সরে আসা উচিত।

বন্দর সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের একটি বিরাট অংশের নিয়ন্ত্রণ থাকে এই নিউমুরিং টার্মিনালের হাতে, যা বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালে পাঁচটি জেটিসহ আধুনিক সব ক্রেন রয়েছে এবং বর্তমানে এটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এত বড় একটি কৌশলগত অবকাঠামো কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তর করা হলে দেশের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারী ও বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তুলছেন।