November 6, 2026, 5:06 pm

৬৮ হাজার গ্রামে পাঠাগার গড়ার স্বপ্ন, যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ পাঠাগার আন্দোলন

Reporter Name

জাতীয় ডেস্ক: পাঠাগার কেবল বই পড়ার নির্দিষ্ট কোনো স্থান নয়, বরং এটি মুক্তচিন্তার বিকাশ এবং সামাজিক রূপান্তরের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। প্রতিটি জনপদে পাঠাগার গড়ে তোলার মাধ্যমে সেগুলোকে যুক্তিবোধ চর্চার শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পাঠাগার আন্দোলন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন যে একটি শোষণমুক্ত ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ নতুন প্রজন্মের মাঝে বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে কেবল ডিজিটাল ডিভাইসে একা পড়ার চেয়ে সম্মিলিত পাঠ এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমেই প্রকৃত চেতনা শাণিত হয়। নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে শহর থেকে শুরু করে গ্রামের প্রতিটি প্রান্তে পাঠচক্রের বিস্তার ঘটাতে হবে। অর্জিত জ্ঞানকে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ব্যবহারের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে দেশের ৬৮ হাজার গ্রামে পর্যায়ক্রমে পাঠাগার প্রতিষ্ঠার সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন নিয়ে কাজ শুরু করেছে এই আন্দোলন। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অতীতে গড়ে ওঠা অথচ বর্তমানে নিষ্ক্রিয় থাকা আট হাজারের বেশি পাঠাগারকে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানানো হয়। লেখক, গবেষক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিয়ে বলেন যে প্রযুক্তির অতি নির্ভরতার কারণে মানুষ গভীর অধ্যয়ন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, যা কাটিয়ে ওঠা অত্যন্ত জরুরি।

শিশু ও কিশোরদের পাশাপাশি মায়েদের এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেন বক্তারা। তাঁরা মত প্রকাশ করেন যে সন্তানদের বইমুখী করতে হলে প্রথমে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। আলোচনা পর্ব শেষে অধ্যাপক এ এন রাশেদাকে সভাপতি এবং রাশেদুল হাসান রিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে এই নবগঠিত সংগঠনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।