
খেলা ডেস্ক: ক্রিকেট মাঠে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ক্যাচের ভুয়া আবেদন করার মতো গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এক ইংলিশ ক্লাব ক্রিকেটারকে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের নিয়মের আওতায় এই শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে এবং এর ফলে তিনি আগামী কয়েক বছর মাঠের যেকোনো ধরনের কার্যক্রম থেকে দূরে থাকবেন। অভিযুক্ত এই ক্রিকেটারের নাম ব্রায়ান ডিভাইন, যিনি মাঠে স্লিপে দাঁড়িয়ে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করায় পরবর্তীতে ক্রীড়ামহলে বিদ্রূপাত্মক উপাধি পান। আঙুল দিয়ে ব্যাটে টোকা দিয়ে ক্যাচ ধরার শব্দ তৈরি করে আম্পায়ারকে বিভ্রান্ত করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসে ক্রিকেট প্রশাসন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল যখন একটি ম্যাচের সময় বল ব্যাটের পাশ দিয়ে চলে যাওয়ার পরও স্লিপে থাকা ফিল্ডার ও উইকেটরক্ষক অত্যন্ত জোরালোভাবে আউটের আবেদন করেন। আম্পায়ার সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে ব্যাটারকে আউট ঘোষণা করলে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা অবাক হয়ে যান। পরবর্তীতে পুরো ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি প্রকাশকারী এক প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় একে ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম লজ্জাজনক প্রতারণা হিসেবে অভিহিত করেন। এরপর তদন্তে আরও কিছু পুরোনো ম্যাচের সন্দেহজনক ফুটেজ সামনে আসে, যা পরিস্থিতির তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, লিখিত বক্তব্য সংগ্রহ করা হয় এবং একটি তিন সদস্যের বিশেষ শৃঙ্খলা প্যানেল সমস্ত ভিডিও ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে। প্রমাণ অপ্রতুল না থাকায় শেষ পর্যন্ত ব্রায়ান ডিভাইন এবং তার দল সল্টবার্ন ক্রিকেট ক্লাব উভয় পক্ষই নিজেদের অসদাচরণের কথা স্বীকার করে নেয়। সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট লিগ কর্তৃপক্ষের গঠিত শৃঙ্খলা কমিটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। লিগ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে এই ঘটনায় জড়িতদের পাশাপাশি অনেককে অনাকাঙ্ক্ষিত সামাজিক ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
শাস্তির অংশ হিসেবে ব্রায়ান ডিভাইনকে আগামী কয়েক বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট ম্যাচ খেলা, কোচিং করানো, আম্পায়ারিং করা কিংবা কোনো জুনিয়র দল পরিচালনা করা থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু এই ক্রিকেটারই নন, তার ক্লাব সল্টবার্ন ক্রিকেট ক্লাবের দ্বিতীয় একাদশের বিরুদ্ধেও বড় ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পয়েন্ট টেবিল থেকে অবনমন ঘটিয়ে দলটিকে নিচের বিভাগে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আগামী মৌসুমের শুরুতেই তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পয়েন্ট কেটে নেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্লাবটিকে আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা পরিশোধ করতে তারা বাধ্য হয়েছে।