November 5, 2026, 2:28 am

আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name

জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি খুলনা ও বাগেরহাট সফর করেছেন। এই সফরে তিনি বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত মনে রাষ্ট্রপ্রধানকে বরণ করে নেন। সফরে তার সঙ্গে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। পুরো সফরটি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে সরাসরি মোংলায় পৌঁছান। এরপর সেখান থেকে সড়কপথে তিনি খুলনা মহানগরীতে যান। মোংলায় পৌঁছানোর পর তিনি স্থানীয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর আগে বাগেরহাট জেলা সদরে পৌঁছে তিনি হযরত খান জাহান আলী রহ.-এর মাজার জিয়ারত করেন। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি মোংলার নির্ধারিত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সড়কপথে খুলনার দিকে রওনা হন। এই যাতায়াতের সময় পথের দুই পাশে সাধারণ মানুষ তাকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করেন।

খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-টু এর শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায় থেকে উদীয়মান ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্যে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি খেলাধুলার প্রসারে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে দেশের দূরদূরান্ত থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা উঠে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে খুলনা শহরকে এক নতুন রূপে সাজানো হয়েছিল। ঐতিহ্যবাহী এই শহরটির বিভিন্ন দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুন্দরবন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি। এছাড়া শহরের সৌন্দর্য রক্ষার্থে যত্রতত্র ব্যানার ও তোরণ লাগানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। শিববাড়ী মোড় থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত প্রধান সড়কগুলোতে ছিল রঙের নান্দনিক ছোঁয়া। এসব পরিবর্তনের প্রশংসা করে স্থানীয়রা জানান যে এমন সুশৃঙ্খল আয়োজন তারা আগে দেখেননি।

খুলনার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত জোরদার ও নিশ্ছিদ্র। সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রেখে সব ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর ছিল। খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নগরীকে সর্বোচ্চ পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিিনন্দন করা হয়েছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ জনপদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও আশা প্রকাশ করেছেন যে এই সফরের মাধ্যমে অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হবে।