October 27, 2026, 9:37 pm
শিরোনাম :
জীবনানন্দের স্মরণে ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্র ইসরায়েলের নির্বাচনে হারছে নেতানিয়াহুর জোট ইসরায়েলে ভোটের ফলাফলে সম্ভাব্য ৪ পরিস্থিতি কী ভাওয়াইয়া থেকে ইসলামি গান, আব্বাসউদ্দীন আজও অম্লান ওলামা অ্যালায়েন্সের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব ইনজিমামুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য সরকারের: বিদ্যুৎমন্ত্রী ঢাকা টেস্ট যেন নিজেদের প্রমাণের পরীক্ষা স্টার্কের ৬ বলে ৪ উইকেট, কেপটাউনে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন অস্ট্রেলিয়ার ফ্রান্সের পথে পথে বাংলাদেশের ‘পথের বন্ধু’ বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদ, যন্ত্রাংশ ও দুটি গাড়ি নিয়ে গেলেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা

ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ২৪ হাজার কোটি টাকা

Reporter Name

অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ নিয়েছে সরকার। এই নির্দিষ্ট সময়ে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। অথচ এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো ছিল, যখন সরকার ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো আগের ঋণ পরিশোধ করেছিল। ফলে গত বছর ওই সময়ে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার মতো ঋণাত্মক অবস্থায় ছিল।

খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয় না বাড়ায় সরকারের পরিচালনা ও উন্নয়ন ব্যয় মেটানোর একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাংক ঋণ। বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে দেশের সামগ্রিক বেসরকারি খাত ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে। অনেক কলকারখানা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে এবং চালু থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোও টিকে থাকার লড়াই করছে। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শ্লথ হয়ে পড়েছে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার মোট ২৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও সরকারের ঋণের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি পুরো অর্থবছরের জন্য ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের মোট ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। অর্থাৎ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই সরকার তার বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় একুশ শতাংশের বেশি ঋণ এরই মধ্যে গ্রহণ করে ফেলেছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, এনবিআরের জন্য নির্ধারিত বিশাল অংকের রাজস্ব আড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয় এবং এর ফলে আগামী দিনে সরকারের আর্থিক ওপর চাপ আরও তীব্র হবে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতের পরিধি বিস্তারের কারণে সরকারের পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারি অর্থের অপচয় কঠোরভাবে রোধ করার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর কার্যকর কৌশল গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।