October 27, 2026, 7:57 pm
শিরোনাম :
স্টার্কের ৬ বলে ৪ উইকেট, কেপটাউনে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন অস্ট্রেলিয়ার ফ্রান্সের পথে পথে বাংলাদেশের ‘পথের বন্ধু’ বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদ, যন্ত্রাংশ ও দুটি গাড়ি নিয়ে গেলেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে চালু হলো বিনা মূল্যে হুইলচেয়ার সেবা হামলা বন্ধে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির জিপিএ–৫ পাওয়া ১৩৫ শিক্ষার্থী ও চা–দোকানি মা-বাবাকে সংবর্ধনা যে লাউ সেই কদু আরব অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার উপস্থিতি বেশি, উদ্বিগ্ন নেতানিয়াহু অভয়নগরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, শিক্ষক পলাতক খাটে বসলে আলো জ্বলে, আছে গেমিং চেয়ার

বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদ, যন্ত্রাংশ ও দুটি গাড়ি নিয়ে গেলেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা

Reporter Name

শিক্ষা ডেস্ক: রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের সরকারি উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই মাঠটি মূলত তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়েরই অংশ এবং গবেষণার কাজের জন্য এটি অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে। সম্প্রতি ওই মাঠটিতে সচিবালয় নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে মাটির গুণাগুণ বা সয়েল টেস্টের কাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে মাঠের অধিকার রক্ষা এবং নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তীব্র আন্দোলন শুরু করেছেন।

উদ্যোগের প্রতিবাদে শতাধিক শিক্ষার্থী একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সরাসরি পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে উপস্থিত হন এবং সেখানে চলমান মাটি পরীক্ষার কাজ সাময়িকভাবে পন্ড করে দেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল থেকে মাটি পরীক্ষার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ এবং দুটি গাড়ি জোরপূর্বক নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। এ সময় তাঁরা ‘সচিবালয় না শেকৃবি, শেকৃবি শেকৃবি’, ‘টেক ব্যাক টেক ব্যাক’ এবং ‘শেকৃবিয়ানের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ইত্যাদি স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সংলগ্ন এই জায়গাটিতে অন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি স্থাপনা গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না।

প্রতিবাদ আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা সকল ধরনের ক্লাস ও নির্ধারিত পরীক্ষা বর্জন করেন এবং ক্যাম্পাসে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা বয়কটের ঘোষণা দেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটি অংশ, যাঁরা ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির সম্পত্তি রক্ষার জন্য একটি বিশেষ স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এম সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর মতো বিভিন্ন গণতান্ত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালালেও মাঠ রক্ষার অনড় অবস্থান থেকে তারা সরে আসেননি।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাঠের কাজে ব্যবহৃত জব্দকৃত যন্ত্রপাতি ও গাড়ি ফিরিয়ে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্টদের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে আলোচনা করতে হবে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে, এটি মূলত শিক্ষার্থীদের নিজস্ব স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন এবং প্রশাসন মাঠটি পুনরুদ্ধারের জন্য আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা সরকারি ও বেসরকারি সরঞ্জামগুলোর যাতে কোনো ধরনের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে শিক্ষার্থীরা কালো পতাকা হাতে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।