
জাতীয় ডেস্ক: বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে শুধু পরিচালনগত খরচ হিসেবে না দেখে একে জীবন ও জাতীয় সম্পদ সুরক্ষার একটি অপরিহার্য বিনিয়োগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই গুরুত্বের কথা তুলে ধরা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, নিরাপদ আকাশপথ কেবল দুর্ঘটনা রোধ করে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিমান চলাচল খাতকে একটি আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাবে রূপান্তর করার বর্তমান পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়ন এবং এয়ার নেভিগেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন কার্যক্রম বর্তমানে এগিয়ে চলছে। তবে এই বড় infrastructural উন্নয়নগুলোর সুফল পেতে হলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখা, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং দক্ষ জনবল তৈরি করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমান খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও প্রতিনিয়ত যুগোপযোগী করে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সুচারু ব্যবহার, নিয়মিত পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং সব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব। এছাড়া শুধু নিয়মরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের একুশটি দেশের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সমাপনী পর্বে বিমানবাহিনী প্রধানসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং উড্ডয়ন নিরাপত্তার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। সবশেষে, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও উন্নত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতের উপযোগী একটি নিরাপদ ও টেকসই বিমান চলাচল ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।