October 28, 2026, 1:01 pm
শিরোনাম :
যে কারণে ২৫টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় শিফট স্থগিত করল সরকার টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে: নাহিদ ইসলাম ৫ বছরে এক কোটি মানুষ বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে কালো অধ্যায়: জামায়াত আমির স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব

দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যতিব্যস্ত বিএনপি

Reporter Name

রাজনীতি ডেস্ক: রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠছে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বারবার বহিষ্কার, শোকজ ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এসব অনিয়ম থামানো যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে নেতাকর্মীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হাইকমান্ড। মূলত এই বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে দলের বিভিন্ন স্তরে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্প্রতি সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে একটি দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, চাঁদাবাজ ও দখলদারদের দলে কোনো স্থান দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি দলের সব পর্যায়ে ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং নিজ নিজ এলাকায় নেতাকর্মীদের গতিবিধি কঠোরভাবে নজরদারিতে রাখতে সংসদ সদস্যদের তাগিদ দেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও অপরাধে জড়িতদের কোনো ধরনের প্রশ্রয় না দিয়ে অবিলম্বে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

কেন্দ্রীয়ভাবে এমন কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অপরাধের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানোর গুরুতর অভিযোগ ওঠে, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর বাইরেও রাজবাড়ী, কুমিল্লা ও রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মৎস্য প্রকল্পে বিষ প্রয়োগ এবং ভাঙচুরের মতো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকে গ্রেপ্তার কিংবা বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কেবল গুটিকয়েক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরীর মতে, রাজনীতিতে অর্থের অপব্যবহার ও অসৎ চর্চা বন্ধ করা না গেলে এ ধরনের অপরাধ পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হবে না। তবে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তৃণমূলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।