October 28, 2026, 11:08 am
শিরোনাম :
জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙায় পাঠ্যবই মুদ্রণে বাঁচল ১৪ কোটি টাকা স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন হৃদয় এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের মেয়েদের সোনা জয় গাজা-লেবানন-সিরিয়ায় দখল বজায় রাখা, ইরানকে দুর্বল করা: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনই ইসির সক্ষমতার পরীক্ষা: ১১ দলীয় ঐক্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কাল, নিরাপত্তায় ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড

উৎপাদন বাড়াতে মাঠে নামার অপেক্ষায় ৮ হাজার লবণচাষি

Reporter Name

অর্থনীতি ডেস্ক: চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়ায় নতুন মৌসুমের লবণ উৎপাদনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মাঠে নামবেন প্রায় আট হাজার লবণচাষি। এই অঞ্চলের কৃষকরা শীতের শুরু থেকেই মাঠ প্রস্তুত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন। চলতি মৌসুমে এসব এলাকায় প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের পুঁইছড়ি, ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, চাম্বলসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে ঐতিহ্যগতভাবে লবণ উৎপাদিত হয়ে আসছে। সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক পলিথিন ব্যবহার করে লবণ চাষ করায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন প্রায় আড়াই গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের পক্ষ থেকে চাষিদের আধুনিক এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়। কাকডাকা ভোর থেকেই মাঠ প্রস্তুতের কাজে নেমে পড়েন চাষিরা, যদিও মাঝে মধ্যে বৈরী আবহাওয়া তাদের এই পরিশ্রমে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করে।

উৎপাদনের প্রস্তুতি চললেও স্থানীয় চাষিদের মধ্যে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে এক ধরনের আশঙ্কা কাজ করছে। গন্ডামারা এলাকার লবণচাষি ফজল আহমদ জানান, গত বছর বেশি জমিতে চাষ করা হলেও উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এ ছাড়া বিদেশি লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে দেশীয় উৎপাদিত লবণের সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। লবণচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি সাহাব উদ্দীনও একই আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত লবণ মজুত থাকার পরও আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে স্থানীয় চাষিরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

অন্যদিকে, বিসিকের কক্সবাজার লবণশিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানান, সাধারণত বছরের নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদন কম হওয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সরকার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ লবণের দাম রয়েছে ৩৪০ টাকা এবং মাঠে পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ মজুত রয়েছে। গত মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হলেও চলতি মৌসুমে চাষি ও জমির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের মাসিক চাহিদার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় উৎপাদকদের সুরক্ষা এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর সংশ্লিষ্ট সকলে গুরুত্বারোপ করেছেন।