October 28, 2026, 9:10 am
শিরোনাম :
বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনই ইসির সক্ষমতার পরীক্ষা: ১১ দলীয় ঐক্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কাল, নিরাপত্তায় ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড বল প্রয়োগের শক্তিই হলো ‘বলের মাত্রা’ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে এবার উচ্চপর্যায়ের কমিটি গাজীপুর কর অঞ্চলে চাকরি, পদ ৩৪ মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি, আলোচনায় সাইবার স্ক্যাম জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারো অবৈধ সাম্রাজ্য টিকানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

২৮০ টাকায় কেনা সাইকেলটি ৬০ বছর পরও সামাদের সঙ্গী

Reporter Name

ফিচার ডেস্ক: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সামাদ প্রামাণিক একজন অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। এলাকার মানুষের কাছে তিনি ‘সামাদ প্রফেসর’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর বয়স সত্তরে কোঠা পেরোলেও শরীর ও মনের সতেজতা অবাক করার মতো। আর তাঁর এই দীর্ঘ পথচলার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে একটি ব্রিটিশ আমলের বাইসাইকেল। প্রায় ছয় দশক ধরে প্রতিদিন এই সাইকেল চালিয়েই তিনি নিজের বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করেন।

১৯৬৬ সালে পরিবারের পক্ষ থেকে মাত্র ২৮০ টাকা দিয়ে তাঁকে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ‘র‍্যালি’ ব্র্যান্ডের এই সাইকেলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। উনিশশো উনসত্তরে উচ্চশিক্ষার জন্য এই বাহনটি নিয়েই তিনি রাজশাহী শহরে পাড়ি জেমছিলেন। এরপর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ডাক এলে সাইকেলটি বাড়িতে রেখেই তিনি রণাঙ্গনে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাড়ি ফিরে অক্ষত অবস্থায় প্রিয় সাইকেলটি খুঁজে পান তিনি। পরে সেটি নিয়ে আবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান এবং ১৯৭৩ সালে সমাজকর্ম বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবনেও তাঁর এই বাইসাইকেলটি ছিল প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। ১৯৭৭ সালে ভবানীগঞ্জ কলেজে গ্রন্থাগারিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর, ১৯৮৪ সালে তিনি একই কলেজের সমাজকর্ম বিভাগে শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পান। নিজ বাড়ি থেকে কলেজ পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ তিনি প্রতিদিন এই সাইকেলে চড়েই যাতায়াত করতেন। এমনকি ২০০৯ সালে নিজের অবসরের দিনেও তিনি সাইকেল চালিয়েই কর্মস্থলে গিয়েছিলেন। অবসরে যাওয়ার পরও তাঁর এই দ্বিচক্র যানের প্রতি আগ্রহ বিন্দুমাত্র কমেনি।

বর্তমান সময়েও তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করেন। দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে সাইকেলটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা পরিবর্তন করতে হয়েছে। তবে মূল ব্র্যান্ডের যন্ত্রাংশ না মেলায় তিনি সবসময় ভালো মানের বিকল্প যন্ত্রাংশ ও টিউব লাগিয়ে এটি সচল রেখেছেন। নিজের শরীরের পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত যত্ন সহকারে এই বাহনটিরও দেখভাল করে থাকেন। তাঁর মতে, বার্ধক্যেও শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার পেছনে নিয়মিত সাইকেল চালানোর বড় অবদান রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও তাঁর সহযোদ্ধারা শিক্ষক সামাদের এই জীবনযাপন দেখে দারুণ অনুপ্রাণিত হন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলী মোল্লা জানান, ছাত্রজীবন থেকে তাঁরা সামাদকে এই একই সাইকেলে চলাচল করতে দেখে আসছেন। ভবানীগঞ্জ কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক রফিকুল ইসলামের মতে, এই সাইকেলটি কেবল একটি বাহন নয়, বরং এটি তাঁর স্মৃতি ও ভালোবাসার একটি গভীর প্রতীক। সামাদ প্রামাণিক নিজেই মনে করেন, এই সাইকেল এখন আর কেবল কোনো জড় বস্তু নয়, বরং এটি তাঁর পরিবারেরই একজন আপন সদস্যের মতো।