October 29, 2026, 3:19 am

স্বাধীন বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংকট

Reporter Name

মতামত ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে আধুনিক প্রযুক্তি, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ফলে মানুষের জীবনযাত্রা ও সামাজিক কাঠামোতে নানা পরিবর্তন আসছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আধিপত্যবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রথাগত কৃষ্টি ও জাতীয়তাবাদী চেতনা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের হাওয়ায় বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি এবং সামাজিক মূল্যবোধও আজ গুরুতর সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব এ অঞ্চলের মানুষের জাতিগত ঐক্যে ফাটল ধরাচ্ছে, যা দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠেছে।

সংস্কৃতি বলতে কেবল ভাষা, সাহিত্য বা খাদ্যাভ্যাসকে বোঝায় না, বরং এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে একটি জাতির রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং সার্বিক অস্তিত্বের প্রশ্ন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে বিদেশি আধিপত্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী নীতি যেভাবে জেঁকে বসেছে, তাতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব স্বকীয়তা রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বিগত রাজনৈতিক আমলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রভাবে জাতীয় স্বার্থ অনেক সময় উপেক্ষিত হয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক চিন্তাবিদরা। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের গণতান্ত্রিক বিকাশ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

এই বহুমুখী সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দেশের রাজনীতি ও সমাজ ব্যবস্থায় সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর ওপর জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদদের মতে, কেবল নামেমাত্র গণতন্ত্র নয়, বরং একটি সর্বজনীন ও জনমুখী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রকৃত অনুশীলনই পারে কায়েমি স্বার্থ ও আধিপত্যবাদী শক্তির আগ্রাসন রুখে দিতে। অতীতে বিভিন্ন সময় প্রগতিশীল আন্দোলন ও সংগ্রাম নানা ষড়যন্ত্রের কারণে বাধাগ্রস্ত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের মৌলিক অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নতুন ও যুগোপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু মিল থাকলেও বাংলাদেশ একটি সম্পূর্ণ পৃথক, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত। ফলে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক বা সামাজিক অবস্থাকে জোর করে এক করে দেখলে তা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হবে। বিশ্বের অন্যান্য স্বাধীন রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের নিজস্ব ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রেখেই ভবিষ্যৎ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় নীতিনির্ধারক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে তাই সব ধরনের আধিপত্যবাদী প্রভাব উপেক্ষা করে নিজস্ব সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।