October 28, 2026, 8:57 pm
শিরোনাম :
পুলিশের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ডাক গোলানের গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানেরও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই চার জুটির চার রকম প্রেম, তিন নতুন মুখের অভিষেক নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ, সমর্থন জানাল ককরোচ পার্টি ১২৬৯ ভবনের মালিককে রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী, অথচ বসে থাকলেন তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষেরা আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়া গত্যন্তর নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিনস প্যান্ট ও অন্তর্বাসে পাচারের চেষ্টা, শাহজালালে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ করা শিখতে হবে: নাহিদ ইসলাম

Reporter Name

রাজনীতি ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সব নাগরিকের ন্যূনতম মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন যে, জানাজা পড়া ও লাশ দাফন করা যেকোনো মানুষের মৌলিক অধিকার। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এই ন্যূনতম অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়ার নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশে সেই ধরনের অমানবিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে বিগত সরকারের বিভিন্ন দমনপীড়নের চিত্র তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমল জুড়ে চরম অমানবিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। অতীতে পিয়াস করিম ও কবি আল মাহমুদের মৃতদেহ শহীদ মিনারে আনতে দেওয়া হয়নি এবং সাধারণ মানুষকে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছিল। এমনকি বিরোধী দলের অনেক শীর্ষ নেতার জানাজাও রাজধানীতে করতে দেওয়া হয়নি, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে নিজের দলের বা আদর্শের বিপরীত অবস্থান সত্ত্বেও রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ইনসাফ বজায় রাখার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন এই রাজনীতিক। তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকায় তোফায়েল আহমেদ এবং তার নিজের এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা একে এম রহমতউল্লাহর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সংসদীয় রীতি অনুযায়ী শোকও প্রকাশ করা হয়েছে। ফ্যাসিস্টদের ক্ষেত্রেও মানবাধিকারের কথা তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন যে, বিপক্ষ শক্তির সাথেও ন্যায়বিচার ও ইনসাফপূর্ণ আচরণ করা আমাদের অবশ্যই শিখতে হবে।

বিগত ষোলো বছরে মানবাধিকার নিয়ে যারা নীরব ছিলেন তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডগুলোর সময় দেশের অনেক মানবাধিকারকর্মী নিশ্চুপ ছিলেন। অথচ মানবাধিকারের সর্বজনীন নীতি বাস্তবায়নের স্বার্থে সেই আমলের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডেরও সুষ্ঠু বিচার হওয়া জরুরি। মৃতদেহের অবমাননা, কবর ভাঙচুর কিংবা শহিদ ওসমান হাদীর কবর উৎখাতের চেষ্টার মতো ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিপরীতে দাঁড়িয়ে দেশে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। কোনো উসকানিমূলক পরিস্থিতিতেও প্রতিপক্ষের অন্ধকার পথ অনুসরণ না করে সব নাগরিকের মানবিক মর্যাদার পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।