October 28, 2026, 12:55 pm
শিরোনাম :
যে কারণে ২৫টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় শিফট স্থগিত করল সরকার টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে: নাহিদ ইসলাম ৫ বছরে এক কোটি মানুষ বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে কালো অধ্যায়: জামায়াত আমির স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব

বোতলজাত ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি

Reporter Name

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সম্প্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুচরা বিক্রেতা ও ডিলারদের ভাষ্যমতে, ভোজ্যতেলের দাম আরও বাড়ানোর অসৎ উদ্দেশ্যে কোম্পানিগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। অনেক দোকানে এক, দুই ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে না। এই সরবরাহ সংকটের বিরূপ প্রভাব পড়েছে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের বাজারেও, যার ফলে গত কয়েক দিনে খোলা তেলের দাম লিটারপ্রতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের নির্ধারিত দাম প্রতি লিটার ২০৪ টাকা হলেও অনেক স্থানে ক্রেতাদের ২১০ টাকা পর্যন্ত দাম পরিশোধ করতে হচ্ছে।

কারওয়ানবাজার, নয়াবাজার ও কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে যে, কোম্পানিগুলো নিয়মিত মনিটরিং থাকা এলাকাগুলোতে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক রাখলেও অন্যত্র তা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। ডিলারদের দাবি, তেলের দাম বাড়ানোর জন্য রিফাইনারিগুলো নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে বলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে গত এপ্রিলের শেষদিকে এবং পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর মাসে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত কোনো উন্নতি হয়নি, বরং সাধারণ ক্রেতাদের দুর্ভোগ দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাম বাড়ানোর নতুন প্রস্তাব জমা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে তারা এই দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এখনো পর্যন্ত এই নতুন দামের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং এর সামগ্রিক প্রভাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই না করে তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু সরকারি অনুমোদনের আগেই বাজারে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ভোজ্যতেলের এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর পুরো বাজার ব্যবস্থার ওপর। তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি ডিম, ব্রয়লার মুরগি, বিভিন্ন ধরনের মাছ এবং সবজির দামও নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এছাড়া মাল্টা ও ডালিমের মতো আমদানীকৃত ফলের দামও কেজিতে অনেকটাই বেড়ে গেছে। কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রতিবার দাম বাড়ানোর আগে একশ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এভাবেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। নিত্যপণ্যের এমন লাগাতার ঊর্ধ্বগতিতে সীমিত ও নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।