October 28, 2026, 12:00 pm
শিরোনাম :
বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে কালো অধ্যায়: জামায়াত আমির স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙায় পাঠ্যবই মুদ্রণে বাঁচল ১৪ কোটি টাকা স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন হৃদয় এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের মেয়েদের সোনা জয় গাজা-লেবানন-সিরিয়ায় দখল বজায় রাখা, ইরানকে দুর্বল করা: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী—ছড়ানো তথ্যটি সঠিক নয়

Reporter Name

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবিকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হয় যে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভুলবশত রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসেছিলেন। ‘চ্যানেল ৩২ নিউজ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট করা হয়, যা মুহূর্তেই নেটিজেনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ক্যাপশনে প্রটোকল লঙ্ঘন এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ তুলে এটিকে হাস্যরস ও সমালোচনার খোরাক বানানো হয়। পোস্টটিতে হাজার হাজার রিঅ্যাকশন এবং শেয়ার হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী এই অসত্য দাবিটিকে সত্যি বলে বিশ্বাস করেন এবং বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টের ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পেছনের পতাকায় ‘রাষ্ট্রপতি’ কথাটি লেখা রয়েছে। মূলত এই দৃশ্য থেকেই একাংশ দাবি করতে শুরু করেন যে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত আসনে বসেছেন। তবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে সংবাদমাধ্যম ও ফ্যাক্টচেক টিমগুলোর পক্ষ থেকে অনুসন্ধান চালানো হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কেবল এই বৈঠকেই নয়, বরং বঙ্গভবনের দীর্ঘদিনের প্রটোকল অনুযায়ী এই নির্দিষ্ট আসনবিন্যাস হয়ে আসছে।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বা বঙ্গভবনের পূর্ববর্তী বিভিন্ন অফিশিয়াল ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করলে এই প্রটোকলের সত্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেমন—সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সৌজন্য সাক্ষাতের ছবি কিংবা সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের ছবিগুলোতেও একই আসনবিন্যাস লক্ষ্য করা গেছে। সেখানেও অতিথির চেয়ারের পেছনে ‘রাষ্ট্রপতি’ লেখা সংবলিত পতাকা এবং রাষ্ট্রপতির বসার স্থানের পেছনে জাতীয় পতাকা টানানো থাকত। শুধু দেশীয় ভিআইপি নন, বরং বিভিন্ন বিদেশি কূটনীতিক ও বিশিষ্ট অতিথিদের সঙ্গে বৈঠকের ক্ষেত্রেও বঙ্গভবনে এই একই নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করা হচ্ছে।

সুতরাং, বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বসা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে দাবি প্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়েই বঙ্গভবনের নির্ধারিত প্রটোকল ও নিয়ম মেনে নিজ নিজ নির্দিষ্ট চেয়ারেই অবস্থান করেছিলেন। এই ধরনের অসত্য তথ্য যাচাই না করে শেয়ার করার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা পৌঁছায়, যা অনভিপ্রেত। তাই যেকোনো সংবেদনশীল বা রাজনৈতিক ছবি শেয়ার করার আগে সেটির পেছনের দাপ্তরিক নিয়ম ও সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।