October 28, 2026, 9:10 am
শিরোনাম :
বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনই ইসির সক্ষমতার পরীক্ষা: ১১ দলীয় ঐক্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কাল, নিরাপত্তায় ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড বল প্রয়োগের শক্তিই হলো ‘বলের মাত্রা’ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে এবার উচ্চপর্যায়ের কমিটি গাজীপুর কর অঞ্চলে চাকরি, পদ ৩৪ মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি, আলোচনায় সাইবার স্ক্যাম জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারো অবৈধ সাম্রাজ্য টিকানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

পুত্রবধূকে ‘চাকরি না দেওয়ায়’ বিদ্যালয়ে তালা, মাঠে লাগালেন কলাগাছ

Reporter Name

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক সাবেক দাতা সদস্যের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেওয়া এবং খেলার মাঠে কলাগাছ রোপণের অভিযোগ উঠেছে। ছুটির দিনে ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল নামক ওই প্রতিষ্ঠানে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি শিক্ষকদের কার্যালয়ে অতিরিক্ত তালা ঝুলিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখেন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা এমন আকস্মিক কর্মকাণ্ডে চরম বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন এবং প্রাত্যহিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করার সময় ভিন্ন একটি নাম ব্যবহার করা হলেও পরবর্তীতে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশিকা অনুযায়ী এর নামকরণ করা হয় ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি লাভ করে এবং বর্তমানে সেখানে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এখনো প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। মূলত এই নামকরণ এবং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরেই পরবর্তীতে নানামুখী জটিলতার সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত সাবেক দাতা সদস্য আজাদ আলীর দাবি, প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সময় তাঁর পুত্রবধূকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যা পরে বাস্তবায়ন করা হয়নি। এই ক্ষোভ থেকেই তিনি বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছেন এবং মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলে জানান। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে অভিযুক্ত ব্যক্তির পুত্রবধূকে ইতিপূর্বে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল।

প্রধান শিক্ষক আরও জানান যে এই বিরোধের জেরে ইতিপূর্বে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তা সত্ত্বেও মামলার নিষ্পত্তি না করেই এমন হঠকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিশ্চিত করেছেন যে বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে এবং সম্প্রতি শিক্ষা বোর্ড নতুন কমিটির অনুমোদনও প্রদান করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় চত্বরে বেড়া দেওয়ায় সাধারণ মানুষও বিশুদ্ধ পানির নলকূপ ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ঘটনার বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান জানান যে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে নেপথ্যে যতই বিরোধ থাকুক না কেন, চালু থাকা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এভাবে বন্ধ করে দেওয়ার বা শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। খুব শীঘ্রই কর্মস্থলে ফিরে তিনি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।