October 28, 2026, 9:10 am
শিরোনাম :
বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনই ইসির সক্ষমতার পরীক্ষা: ১১ দলীয় ঐক্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কাল, নিরাপত্তায় ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড বল প্রয়োগের শক্তিই হলো ‘বলের মাত্রা’ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে এবার উচ্চপর্যায়ের কমিটি গাজীপুর কর অঞ্চলে চাকরি, পদ ৩৪ মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি, আলোচনায় সাইবার স্ক্যাম জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারো অবৈধ সাম্রাজ্য টিকানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

ঢাকায় এক মঞ্চে দেশ-বিদেশের নগরপ্রধানেরা, আলোচনায় বাসযোগ্য শহর

Reporter Name

জাতীয় ডেস্ক: তীব্র যানজট, আবাসনসংকট, জলাবদ্ধতা এবং পরিবেশদূষণের মতো বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত দেশের জনবহুল শহরগুলোকে কীভাবে আরও বেশি বাসযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব করে তোলা যায়, তা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে রাজধানী ঢাকায় শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন। বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের আয়োজনে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই আসর বসেছে, যেখানে দেশের পাশাপাশি বিদেশের খ্যাতনামা নগরপ্রধান, বিশিষ্ট স্থপতি ও নগর-পরিকল্পনাবিদেরা অংশ নিচ্ছেন। সবার জন্য সম্মিলিতভাবে নগর গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে আধুনিক নগরায়ণের বিভিন্ন দিক ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হচ্ছে।

এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে ‘মেয়রস টকস’, যেখানে দেশি-বিদেশি নগরপ্রধান ও প্রশাসনিক শীর্ষ ব্যক্তিরা নিজ নিজ শহরের সমস্যা ও ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক অতিথিদের মধ্যে শ্রীলঙ্কার কলম্বো মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের মেয়র, ফিলিস্তিনের রামাল্লাহর ডেপুটি মেয়র এবং নেপালের বিভিন্ন পৌরসভার প্রতিনিধিরা এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, মেয়র এবং দেশের প্রধান প্রধান উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ প্রতিনিধিরাও এই মঞ্চে উপস্থিত থেকে নিজ অঞ্চলের চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের উপায় তুলে ধরছেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান সময়ে কেবল বড় বড় অবকাঠামো বা সড়ক নির্মাণই শহরের প্রকৃত উন্নয়ন নয়, বরং নগরবাসীর জীবনমান উন্নত করতে উন্মুক্ত স্থান রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সুবিধার সুষম বণ্টন অত্যন্ত জরুরি। নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সরাসরি সংলাপের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ প্রশস্ত করতেই এই বিশেষ আলোচনাগুলো সাজানো হয়েছে। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে পেশাগত চাহিদার কথা মাথায় রেখে স্থাপত্যশিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়ন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনও এই কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

চার দিনব্যাপী এই বৈচিত্র্যময় আয়োজনে বিভিন্ন আকর্ষণীয় সেশনের মধ্যে রয়েছে সমকালীন স্থাপত্যের উদীয়মান প্রতিভাদের নিয়ে আলোচনা, বিশেষ প্রদর্শনী, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান। আয়োজক সংগঠনের মতে, কেবল স্থপতিদের একাই নয়, বরং নগর কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী, পরিকল্পনাবিদ ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই কেবল টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গঠন সম্ভব। এই সম্মেলনের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন দেশের সফল মডেলগুলো ভবিষ্যতে দেশের শহরগুলোর পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।