October 29, 2026, 4:01 am
শিরোনাম :
মাতারবাড়ী হয়ে ‘সেভেন সিস্টার্সে’র সঙ্গে সংযোগ জোরদার করতে চায় জাপান, যা বলল ভারত ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে, আবার সাগরে ছুটবে মাছ ধরার নৌকা গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নে ভারতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ: এএফপির প্রতিবেদন প্রাথমিকে শিক্ষকতায় প্রকৌশলী-চিকিৎসক–এমফিল-পিএইচডিসহ ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারীরা সরকারি দলের পক্ষে সমর্থনের অভিযোগ, ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সুলভ সরকারি এলপিজি কোথায় যায়, কারা পায় ব্যাংক খাত ঠিক হবে তো? ফ্রান্সসহ ইউরোপে বিক্ষোভের জন্য মুসলমানরা দায়ী! স্বাধীন বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংকট মঞ্চে আসছে নবরসের নতুন নাটক ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’

গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বদলে নতুন করে স্বাক্ষরের চিন্তা আত্মঘাতী

Reporter Name

রাজনীতি ডেস্ক: দীর্ঘ তিন দশক ধরে কার্যকর থাকা গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হতে চলেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় চুক্তিটির ভবিষ্যৎ ও এর নানা দিক নিয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নদী-গবেষক এবং রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দুই দেশের মধ্যকার শীতল সম্পর্কের জেরে চুক্তিটির নবায়ন প্রক্রিয়া বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই চুক্তি নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন ও আপত্তি তোলার বিষয়টি এখন বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নদী বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নে বর্তমান চুক্তির বেশ কিছু বড় ধরনের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণত আন্তর্জাতিক নদীর ক্ষেত্রে চুক্তিগুলো স্থায়ী কিংবা অন্তত ৭৫ থেকে ১০০ বছরের মেয়াদি হয়ে থাকে, অথচ গঙ্গা চুক্তিটি মাত্র ৩০ বছর মেয়াদি করা হয়েছিল। এছাড়া গঙ্গা অববাহিকায় নেপাল ও চীনের মতো দেশগুলোর অংশ থাকলেও এই চুক্তিটি সম্পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় রাখা হয়েছে, যা একটি বড় ত্রুটি। এমনকি ফারাক্কা পয়েন্টে প্রবাহ মাপা হলেও তার উজানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে numerous পানি প্রত্যাহার প্রকল্প থাকায় নদীর প্রকৃত হিসাব এবং সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

চুক্তির মেয়াদে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির হিসাব করলে দেখা যায়, ফারাক্কার কারণে গঙ্গায় পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গড়াইসহ বহু শাখা নদী আজ মৃত প্রায়। সুন্দরবনে মিঠা পানির প্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় লবনাক্ততা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গাছপালায় রোগ দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে পলি জমার কারণে নদী ভরাট হয়ে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়া ছাড়াও উপকূলীয় অঞ্চলে ভাঙন ও মৎস্যসম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অতীতের ১৯৭৭ সালের চুক্তি এবং ১৯৯৬ সালের চুক্তির কোনোটিতেই নদী প্রবাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত ও ফলপ্রসূ কোনো সুরাহা হয়নি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

এমন বাস্তবতায় গঙ্গা চুক্তি কেবল নবায়ন করার চিন্তা করাকে সম্পূর্ণ আত্মঘাতী বলে মনে করেন নদী গবেষক শেখ রোকন। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে চুক্তি বাতিল বা নতুন করে জটিল শর্তে যাওয়ার চেয়ে, আঞ্চলিক সব দেশকে সম্পৃক্ত করে একটি ত্রিপক্ষীয় বা সর্বসম্মত স্থায়ী চুক্তি করার ওপর জোর দেওয়া উচিত। নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ রক্ষা এবং সামগ্রিক অববাহিকার ভারসাম্য বজায় রাখতে কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও বেশি কার্যকর ও কৌশলগত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।