October 28, 2026, 10:33 pm
শিরোনাম :
গাংনীতে ভোক্তা-অধিকারের অভিযানে ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে গ্রুপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কারাগারে ফিরলেন আনিসুল হক, পলক ও মামুন মাও সে তুংকে নিয়ে রসিকতা, এমবাপ্পের জন্য চীনের কাছে ক্ষমা চাইল রিয়াল সাব-এজেন্টদের জবাবদিহি ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর গ্রেডিং প্রয়োজন ইংলিসের ব্যাটে লিড পেল অস্ট্রেলিয়া বীমা কোম্পানির সিএফও হতে লাগবে ৭ যোগ্যতা পুলিশের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ডাক গোলানের গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানেরও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই

কৃষিঋণের ৪২% খেলাপি

Reporter Name

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের হার অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে এক alarming বা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। একসময়ে এই খাতে খেলাপির পরিমাণ অন্যান্য খাতের তুলনায় বেশ কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে কৃষি খাতে বিতরণকৃত মোট ঋণের বড় একটি অংশই এখন আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। সার্বিক ব্যাংক খাতের গড় খেলাপি ঋণের হারকেও ছাড়িয়ে গেছে এই খাতের খেলাপি ঋণের চিত্র।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে প্রকাশ পেয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময় শেষে কৃষি খাতে মোট ঋণস্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৪৩২ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকাই বর্তমানে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৪২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অথচ এর কিছুদিন আগেই গত জুন প্রান্তিক শেষে এ খাতে খেলাপির হার ছিল তুলনামূলক কম। অর্থাৎ খুবই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কৃষিখাতের অবদান অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও অপরিহার্য। মোট দেশজ উৎপাদনে বা জিডিপিতে এই খাতের বড় অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং দেশের শ্রমশক্তির একটি বিশাল অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পুষ্টি চাহিদা মেটাতে সরকার সবসময়ই কৃষিঋণ বিতরণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের সহায়তা করতে সরকার সুদসহ ঋণ মওকুফের মতো জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন ঋণ শ্রেণিকরণ ও নিরাপত্তা সঞ্চিতির কঠোর নীতিমালার কারণেই মূলত খেলাপি ঋণের এই উল্লম্ফন ঘটেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রণীত এই নীতিমালায় ঋণ পরিশোধের সময়সীমা কঠোর করা হয়েছে এবং গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা কমিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের পর বকেয়া পড়া ঋণগুলো খুব দ্রুত খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তা সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ব্যাংকগুলো নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে ঋণ বিতরণ এবং পুরনো ঋণ আদায়ের কার্যক্রম সমানভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।