October 28, 2026, 12:55 pm
শিরোনাম :
যে কারণে ২৫টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় শিফট স্থগিত করল সরকার টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে: নাহিদ ইসলাম ৫ বছরে এক কোটি মানুষ বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে কালো অধ্যায়: জামায়াত আমির স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব

আপত্তি ও বিক্ষোভের মুখেই দুবাইয়ের কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল

Reporter Name

জাতীয় ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিগত কার্যক্রম নিষিদ্ধআওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মতো বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময়েও এই বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে বন্দর রক্ষা ও দেশীয় স্বার্থ রক্ষার দাবি জানিয়ে শুরু থেকেই ফুঁসে ওঠেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। তাদের জোরালো প্রতিবাদের মুখে একপর্যায়ে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল এই কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছিল।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক একটি শীর্ষস্থানীয় লজিস্টিকস কোম্পানির সঙ্গে এই চুক্তি সম্পাদনের আলোচনা চলছে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের যুক্তি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। তবে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে শ্রমিকদের আন্দোলনের তীব্রতা বাড়লে বন্দর কতৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সাময়িকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া থেকে পিছু হটেছিল। কিন্তু সম্প্রতি পুনরায় সেই কার্যক্রম গতি পাওয়ার পর নতুন করে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে পিছপা হবেন না। বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা মনে করেন, দেশীয় জনবল ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এই টার্মিনালটি সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।

সার্বিক এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত বা বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একদিকে বন্দরের আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোর তাগিদ রয়েছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও অংশীজনরা আশা করছেন, সরকার সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবে যা দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।