October 28, 2026, 9:00 pm
শিরোনাম :
পুলিশের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ডাক গোলানের গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানেরও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই চার জুটির চার রকম প্রেম, তিন নতুন মুখের অভিষেক নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ, সমর্থন জানাল ককরোচ পার্টি ১২৬৯ ভবনের মালিককে রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী, অথচ বসে থাকলেন তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষেরা আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়া গত্যন্তর নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিনস প্যান্ট ও অন্তর্বাসে পাচারের চেষ্টা, শাহজালালে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

অভয়নগরে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সেবা ফাউন্ডেশনের অবস্থান কর্মসূচি

স্টাফ রিপোর্টার

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কার ও গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষার দাবিতে যশোরের অভয়নগরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সেবা ফাউন্ডেশন। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নওয়াপাড়া বাজার শাখা ইসলামী ব্যাংকের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা ব্যবস্থা, মালিকানা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাকরির স্থায়িত্ব, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম এবং অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এ সময় তারা ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটির সঙ্গে সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও আমানতকারীদের বড় ধরনের স্বার্থ জড়িত। তাই ব্যাংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং গ্রাহকদের আস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
কর্মসূচিতে প্রথম দাবিতে বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহির হোসেনের পদত্যাগ বা অপসারণ দাবি করা হয়। বক্তারা তাকে ‘অপেশাদার, ব্যর্থ ও এস আলম চক্রের সুবিধাভোগী’ হিসেবে দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতৃবৃন্দের বক্তব্য; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এ কর্মসূচিতে পাওয়া যায়নি।
দ্বিতীয় দাবিতে ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিষয়ে দক্ষ, যোগ্য, সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক পরিচালনা কাঠামো প্রয়োজন।
তৃতীয় দাবিতে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শেয়ার ও সম্পদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৮২ শতাংশ শেয়ার এবং পাচারকৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের দায় পরিশোধে ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের মূল উদ্যোক্তা ও আদি মালিকদের কাছে মালিকানা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়।
এস আলম-সংশ্লিষ্ট শেয়ারের বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আদালতেও আইনি প্রক্রিয়া হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংকের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ২৪টি কোম্পানির মাধ্যমে কেন্দ্রীভূত ও নিয়ন্ত্রণের অভিযোগের মামলায় হাইকোর্ট শেয়ারগুলো তিন মাসের জন্য ফ্রিজের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানানো হয়।
চতুর্থ দাবিতে ব্যাংকের অভিজ্ঞ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, ব্যাংকের পরিচালনা ও গ্রাহকসেবা স্বাভাবিক রাখতে আগামী দুই বছর কোনো ঊর্ধ্বতন নির্বাহীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ নবায়ন করতে হবে।
পঞ্চম দাবিতে ব্যাংকের অভ্যন্তরে কথিত ‘দালাল চক্র’ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, এস আলমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে তাদের ব্যাংক থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
ষষ্ঠ দাবিতে ব্যাংক লুট ও অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ বা পাচারের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে মোহাম্মদ জহির হোসেনকে দায়িত্ব দেয়। পরে নিরপেক্ষ সদস্যদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠনের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছিল।
এদিকে ১৬ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহির হোসেন সভাপতিত্ব করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা ছয় দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গ্রাহকদের আমানত ও ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।