November 5, 2026, 11:51 pm

রোনালদোর ২৩ বছরের কীর্তি মাপবেন কী দিয়ে

Reporter Name

খেলা ডেস্ক: দীর্ঘ ২৩ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে পর্তুগালের ৭ নম্বর জার্সিটি চিরতরে তুলে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিশোর বয়সে যে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রেখেছিলেন, সময়ের পরিক্রমায় তিনি হয়ে ওঠেন দেশটির সর্বকালের সেরা ফুটবল তারকা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা ও ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে তিনি দেশের হয়ে আর মাঠে না নামার এই সিদ্ধান্ত জানান। তাঁর এই বিদায়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এবং পর্তুগিজ সমর্থকেরা এক যুগের সমাপ্তি দেখতে পাচ্ছেন।

২০০৩ সালের আগস্টে কাজাখস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পর্তুগালের জার্সিতে সিনিয়র দলে অভিষেক ঘটেছিল তরুণ রোনালদোর, যাঁর চোখে ছিল বিশ্বজয় করার স্বপ্ন। এরপর দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তিনি দেশটির জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলকে পৌঁছে দিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে বসেও যেভাবে সতীর্থদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তা পর্তুগালের প্রথম বড় শিরোপা জয়ের পথে টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের নেশনস লিগ জয় এবং দেশের জার্সিতে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়ে তিনি নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যান।

জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ পথচলায় রোনালদো ছয়টি বিশ্বকাপসহ অসংখ্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন এবং অনেক স্মরণীয় রেকর্ড গড়েছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরুষদের বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২৩৪টি ম্যাচ খেলে ১৪৬টি গোল করার অনন্য বিশ্বরেকর্ড এখন তাঁর নামের পাশে সুরক্ষিত। যদিও বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার অধরা স্বপ্নটি শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি, তবুও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ ১৪ গোলসহ তাঁর বহু রেকর্ড আগামী দিনেও ফুটবলারদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। শেষ সময়ে কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে কিছু টানাপোড়েন ও অসন্তোষের গুঞ্জন উঠলেও, মাঠে তাঁর অবদান ও গোল করার ক্ষুধায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর এই সুদীর্ঘ যাত্রা কেবল কিছু পরিসংখ্যান বা রেকর্ডের সমাহার নয়, বরং এটি একটি গোটা প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখানোর ইতিহাস। ২০০৪ সালের ইউরো ফাইনালে কিশোর রোনালদোর চোখের জল যেমন দেশের মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছিল, তেমনি ১২ বছর পর ট্রফি জয়ের পর তাঁর আনন্দের অশ্রু সমগ্র পর্তুগালকে ভাসিয়েছিল বাঁধভাঙা উল্লাসে। এখন থেকে জাতীয় দলের মাঠে অন্য কেউ ৭ নম্বর জার্সি গায়ে নামবেন এবং নতুন কোনো তারকার জন্ম হবে, কিন্তু দুই হাত ছড়িয়ে তাঁর সেই বিখ্যাত গোল উদযাপনের দৃশ্য ভক্তদের হৃদয়ে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।