October 28, 2026, 9:34 pm
শিরোনাম :
সাব-এজেন্টদের জবাবদিহি ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর গ্রেডিং প্রয়োজন ইংলিসের ব্যাটে লিড পেল অস্ট্রেলিয়া বীমা কোম্পানির সিএফও হতে লাগবে ৭ যোগ্যতা পুলিশের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ডাক গোলানের গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানেরও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই চার জুটির চার রকম প্রেম, তিন নতুন মুখের অভিষেক নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ, সমর্থন জানাল ককরোচ পার্টি ১২৬৯ ভবনের মালিককে রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী, অথচ বসে থাকলেন তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষেরা

ভিক্ষুকের ঘরে সিঁধ কেটে চুরি

Reporter Name

অপরাধ ডেস্ক: মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের ঘরে সিঁধ কেটে সর্বস্ব চুরির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের কালাই সরদারের চর এলাকায় কুঁড়েঘরে একাই বসবাস করেন আব্দুল জলিল নামের ওই অসহায় ব্যক্তি। দুই পায়ে চলার শক্তি না থাকায় লাঠিতে ভর দিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করেই তার দিন চলে। দীর্ঘদিন ধরে তিল তিল করে জমানো অল্প কিছু টাকা এবং বেঁচে থাকার সামান্য চাল ছিল তার একমাত্র সম্বল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার শেষে নিজের ভাঙা কুঁড়েঘরে ঘুমিয়ে পড়েন জলিল। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তার ঘরের দেয়াল বা সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঘরে থাকা চাল ও জমানো টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে জেগে ঘরের এই লণ্ডভণ্ড অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বহুদিনের কষ্টে জমানো সম্বলটুকু হারিয়ে জীবন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় পড়েন এই প্রতিবন্ধী মানুষটি।

প্রায় এক দশক ধরে পঙ্গুত্বের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা জলিলের আপন বলতে রয়েছেন কেবল এক বোন, যিনি মাঝে মাঝে এসে তাকে রান্না করে খাইয়ে যান। অন্য সময় সম্পূর্ণ একা থেকেই লাঠির ওপর ভর দিয়ে নিজের দৈনন্দিন লড়াই চালিয়ে যান তিনি। এমন একজন অসহায় ও পরনির্ভরশীল মানুষের শেষ সম্বলটুকু যারা চুরি করে নিয়েছে, তাদের অমানবিকতা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

এদিকে অসহায় আব্দুল জলিলের চুরির বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরা তার পাশে এসে দাঁড়ান। খবর পেয়ে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন সরাসরি জলিলের বাড়িতে যান এবং তার সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় ওই সংসদ সদস্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক সহায়তা ও চালসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন।

ত্রাণ ও সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি সংসদ সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত জলিলের কুঁড়েঘরটি পাকা করে দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দেন। জীবনের শেষ সম্বল হারানোর পর এমন আকস্মিক সহায়তায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে জলিলের মনে। এখন নিরাপদ একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই এবং দুবেলা নিশ্চিত খাবারের প্রত্যাশায় দিন কাটাচ্ছেন এই অসহায় মানুষটি।