October 28, 2026, 7:08 am
শিরোনাম :
কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি, আলোচনায় সাইবার স্ক্যাম জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারো অবৈধ সাম্রাজ্য টিকানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হচ্ছে কাল সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আইজিপির দায়িত্ব থেকে অতি দ্রুত সরে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের জনজীবন, প্রায় ২ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান দর্শকের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যই যেন বেশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গভর্নরের বৈঠক, ঢাকায় কার্যালয় খোলার আলোচনা

শিক্ষক রাবি ছাত্রদল নেতা, ক্লাস নেন তার মামা

Reporter Name

শিক্ষা ডেস্ক: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার একটি আলিম মাদরাসায় নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম জীবন ওই মাদরাসায় শিক্ষক পদে নিয়োগ পেলেও তিনি নিজে ক্লাসে উপস্থিত হন না। তার পরিবর্তে তার মামা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অভিযুক্ত নেতা নিজে কোনো দায়িত্ব পালন না করেই নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা তুলছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত নাফিউল ইসলাম জীবন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং তিনি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে একটি প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি সম্প্রতি বাঘার পারসওতা হযরত শাহ সুফি বাঘু দেওয়ান রহ. আলিম মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তবে যোগদানের পর থেকেই তিনি ক্লাসে অনুপস্থিত থেকে তার মামা আসমত আলীকে দিয়ে নিয়মিত পাঠদান করাচ্ছেন। মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন না হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে তিনি শুরু থেকেই এই অনিয়ম চালিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে।

মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বজলুল করীম এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নাফিউল ইসলাম জীবনের মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ না হওয়ায় তিনি অন্য একজনকে দিয়ে ক্লাস করাচ্ছেন। পরিচালনা পর্ষদ এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে এবং কোনো বাধা না থাকায় এই প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা জীবন জানান, পারিবারিক পরামর্শে এবং জীবিকার তাগিদে তিনি চাকরিতে যোগ দেন। মাস্টার্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই তিনি তার মামাকে ক্লাস নেওয়ার দায়িত্ব দেন এবং প্রাপ্ত বেতনের অর্ধেক অংশ তাকে দিয়ে দেন।

তবে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান করানোর এই পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ অবৈধ বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বাঘা উপজেলার নির্বাহী অফিসার তকী ফয়সাল তালুকদার সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন না এবং এটি প্রচলিত নিয়মের পরিপন্থী। তিনি আরও জানান, পুরো ঘটনাটির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত সত্যতা যাচাই করা হবে এবং সুনির্দিষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।