October 28, 2026, 10:54 am
শিরোনাম :
রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙায় পাঠ্যবই মুদ্রণে বাঁচল ১৪ কোটি টাকা স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন হৃদয় এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের মেয়েদের সোনা জয় গাজা-লেবানন-সিরিয়ায় দখল বজায় রাখা, ইরানকে দুর্বল করা: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনই ইসির সক্ষমতার পরীক্ষা: ১১ দলীয় ঐক্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কাল, নিরাপত্তায় ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড বল প্রয়োগের শক্তিই হলো ‘বলের মাত্রা’

‘তালা পড়লো’ যন্তর-মন্তরে, কী ছিল সেখানে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের ইতিহাস?

Reporter Name

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন কিংবা বিক্ষোভ প্রদর্শনের ওপর সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ ও আন্দোলনের অন্যতম মুক্তমঞ্চ হিসেবে পরিচিত এই চত্বরে জমায়েত করার পথ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেল। সরকারের এমন কঠোর পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন একে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বর রোধ করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি একে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে। তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো এবং যেকোনো বিষয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করার সাংবিধানিক অধিকারের ওপর এটি এক সরাসরি ও মারাত্মক আঘাত। এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দশক ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বঞ্চিত ও আন্দোলনরত মানুষ নিজেদের দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে এই যন্তর মন্তর চত্বরকে প্রতিবাদের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। কৃষক আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন দুর্নীতিবিরোধী প্রতিবাদ, নীতিগত অসন্তোষ কিংবা সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবি—সবকিছুরই নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছে এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ। এখানে বহু স্মরণীয় আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে যা জাতীয় রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের বাধ্য করেছিল জনমতের কথা বিবেচনা করতে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই এলাকায় মাত্রাতিরিক্ত জনসমাগম ও আন্দোলনের জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল বলে অভিযোগ তুলেছে প্রশাসন। নিরাপত্তার কারণ এবং জনদুর্ভোগ কমানোর কথা বলেই মূলত এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, জনস্বার্থের আড়ালে মূলত রাজনৈতিক असন্তোষ ও সরকারের সমালোচনা দমানোই এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য, যা ভবিষ্যতে আরও বড় প্রতিবাদের জন্ম দিতে পারে।