October 28, 2026, 10:10 am
শিরোনাম :
স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন হৃদয় এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের মেয়েদের সোনা জয় গাজা-লেবানন-সিরিয়ায় দখল বজায় রাখা, ইরানকে দুর্বল করা: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনই ইসির সক্ষমতার পরীক্ষা: ১১ দলীয় ঐক্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কাল, নিরাপত্তায় ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড বল প্রয়োগের শক্তিই হলো ‘বলের মাত্রা’ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে এবার উচ্চপর্যায়ের কমিটি গাজীপুর কর অঞ্চলে চাকরি, পদ ৩৪ মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

পশুপাখির জন্য ক্ষতিকর পণ্য তৈরিও নিষিদ্ধ হচ্ছে

Reporter Name

জাতীয় ডেস্ক: মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু ও মৎস্যসহ যেকোনো প্রাণীর জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য তৈরি, আমদানি বা বাজারজাত নিষিদ্ধ করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই যুগ আগে প্রণীত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন যুগোপযোগী করার অংশ হিসেবে এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এই সংশোধনী আইনের একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রস্তুত করেছে এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এতে জনসাধারণের মতামত আহ্বান করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ওয়ান হেলথ ধারণাকে সামনে রেখে মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের সুরক্ষাকে সমান্তরালে বিবেচনায় নিয়ে এই নতুন বিধানগুলো যুক্ত করা হচ্ছে।

সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধু প্রাণী সুরক্ষাই নয় বরং ভেজাল খাদ্য, নিষিদ্ধ ওষুধ কিংবা অনুমোদনহীন সেবা বিক্রির প্রচার বা প্রদর্শনকেও গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ছাড়া বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ডিজিটাল বাণিজ্যকে নিয়মের মধ্যে আনতে স্পষ্ট সংজ্ঞা যুক্ত করা হচ্ছে নতুন খসড়ায়। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত পেমেন্ট গেটওয়ে এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত কুরিয়ার সেবার সুনির্দিষ্ট রূপরেখাও আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইনে জুয়া বা বেটিংয়ের বিস্তার রোধ করতে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে নতুন আইনি বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো পণ্য বিক্রির সময় ক্রেতাকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রয়ের রসিদ প্রদান করতে হবে, অন্যথায় কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বিক্রেতাকে। মানসম্মত পণ্য সরবরাহে ব্যর্থতা এবং ভেজাল ওষুধ বা খাদ্য বিক্রির অপরাধের ক্ষেত্রেও জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। অপরদিকে, বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দেওয়ানি মামলার আপিল করার সময়সীমা নব্বই দিন থেকে কমিয়ে ষাট দিন করার প্রস্তাব আনা হয়েছে। একই সঙ্গে আপিলের এখতিয়ার হাইকোর্টের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট জেলা জজ আদালতে স্থানান্তর করার কথা বলা হয়েছে।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান জানিয়েছেন যে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি হালনাগাদ করার কাজ চলছে এবং জনমত যাচাই শেষে এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে সাধুবাদ জানিয়েছেন, কারণ মানুষের পরিপূর্ণ সুস্থতার জন্য প্রাণী ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এই সংশোধনী পাস হলে দেশের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ব্যবস্থা আরও বেশি কার্যকর ও আধুনিক রূপ লাভ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।