October 28, 2026, 9:54 pm
শিরোনাম :
মাও সে তুংকে নিয়ে রসিকতা, এমবাপ্পের জন্য চীনের কাছে ক্ষমা চাইল রিয়াল সাব-এজেন্টদের জবাবদিহি ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর গ্রেডিং প্রয়োজন ইংলিসের ব্যাটে লিড পেল অস্ট্রেলিয়া বীমা কোম্পানির সিএফও হতে লাগবে ৭ যোগ্যতা পুলিশের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ডাক গোলানের গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানেরও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই চার জুটির চার রকম প্রেম, তিন নতুন মুখের অভিষেক নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ, সমর্থন জানাল ককরোচ পার্টি ১২৬৯ ভবনের মালিককে রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা

বাংলাদেশপন্থা: একটি নতুন রাষ্ট্রদর্শন

Reporter Name

মতামত ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে বেশ কিছু কৃত্রিম ও বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন সামনে এনে নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। বাঙালি বনাম মুসলমান কিংবা প্রগতিশীল বনাম রক্ষণশীল পরিচয়ের এই কৃত্রিম দ্বন্দ্বের উদ্দেশ্য হলো একটি পরিচয় গ্রহণ করতে গিয়ে অন্যটিকে বিসর্জন দিতে বাধ্য করা। অথচ এ দেশের সাধারণ মানুষ একই সঙ্গে বাঙালি, বাংলাদেশি, ধর্মপ্রাণ এবং আধুনিক মূল্যবোধের অনুসারী হতে পারেন। পরিচয়ের এই বহুত্ব কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটিই সমাজের মূল শক্তি। কিন্তু এই বহুত্বকে রাজনৈতিকভাবে ধারণ করার অক্ষমতাই মূলত অতীতের রাষ্ট্রীয় সংকটগুলোকে আরও ঘনীভূত করেছে।

ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের অস্তিত্ব কেবল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর শেকড় আরও গভীরে প্রোথিত রয়েছে। প্রাচীন বাংলার সভ্যতা, সুলতানি আমল, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত দীর্ঘ সংগ্রামই এই জাতির মূল ভিত্তি। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন একটি নির্দিষ্ট দল ইতিহাসকে তাদের রাজনৈতিক সম্পত্তিতে পরিণত করে। এর ফলশ্রুতিতে রাজনৈতিক টোটেমবাদ বা ব্যক্তিপূজা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের পরিবর্তে নির্দিষ্ট কোনো দলের ইচ্ছা বাস্তবায়নের যন্ত্রে রূপ নেয়, যা শেষ পর্যন্ত কর্তৃত্ববাদী শাসনের জন্ম দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান সেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন খুব দ্রুতই রাষ্ট্রে সুযোগ বণ্টন, নাগরিক মর্যাদা এবং জবাবদিহিতার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রযন্ত্রের নানা দমনপীড়ন ও অপপ্রচারের মুখেও নতুন প্রজন্ম পিছপা হয়নি এবং তাদের এই ত্যাগ প্রমাণ করে যে এটি কেবল সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না। মূলত এটি ছিল শাসনের নৈতিক ভিত্তির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের একটি গভীর ও সফল বিদ্রোহ, যা নতুন রাষ্ট্রগঠনের সুযোগ তৈরি করেছে।

রাষ্ট্রচিন্তার ক্ষেত্রে আরেকটি প্রচলিত বিতর্ক হলো ইসলাম ও গণতন্ত্রকে একে অপরের পরিপূরক না ভেবে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করানো। অথচ আধুনিক গণতন্ত্রের মৌলিক মূল্যবোধ এবং ইসলামি রাজনৈতিক নৈতিকতার মূল সুর—উভয় ক্ষেত্রেই ইনসাফ, ন্যায়বিচার, জনকল্যাণ এবং জবাবদিহিতার বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উপস্থিত রয়েছে। তাই এই দুই ধারার মধ্যে বিরোধ তৈরি না করে নাগরিক সমতা ও মৌলিক অধিকারের ভিত্তিতে একটি বাস্তবসম্মত সমন্বয় সাধন করা সম্ভব। এই প্রেক্ষাপটেই বর্তমান সমাজ ও ইতিহাসের আলোকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রদর্শন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যা নাগরিকের মর্যাদা ও সমতা নিশ্চিত করবে।