October 28, 2026, 8:56 pm
শিরোনাম :
পুলিশের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ডাক গোলানের গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানেরও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই চার জুটির চার রকম প্রেম, তিন নতুন মুখের অভিষেক নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ, সমর্থন জানাল ককরোচ পার্টি ১২৬৯ ভবনের মালিককে রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী, অথচ বসে থাকলেন তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষেরা আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়া গত্যন্তর নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিনস প্যান্ট ও অন্তর্বাসে পাচারের চেষ্টা, শাহজালালে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

নওয়াপাড়ায় অপারেশনের পর প্রসূতির মৃত্যু : অপারেশন থিয়েটার সিলগালা

নওয়াপাড়া ডেস্ক

যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া ফাতেমা (প্রাঃ) হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর মোছা. রত্না বেগম (২৮) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। অপারেশনের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি ও পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়ার বিষয়টি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের জানানো হলেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। পরে শনিবার ভোরে ওই নারীর মৃত্যু হয়।
নিহত রত্না বেগম যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মিনাংগীর হোসেনের স্ত্রী। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে অভয়নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এঘটনার পর দুপুরে উপজেলা প্রশাসন হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারটি সিলগালা করে দেয়।

পরিবারের সদস্য ও নিহতের দুলাভাই এমএম আমিনুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রত্না বেগমকে প্রসবজনিত কারণে নওয়াপাড়া ফাতেমা (প্রাঃ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হাসপাতালের পরিচালক ও চিকিৎসক ডা. মনজুরুল মোরশেদ তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর কিছু সময় যেতে না যেতেই রত্না বেগমের পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে। একই সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থারও অবনতি হতে থাকে। বিষয়টি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের জানানো হলেও তারা প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেননি বলে দাবি পরিবারের।

এমএম আমিনুর রহমান বলেন, অপারেশনের পর রোগীর অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়। কিন্তু সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাদের মনে হয়েছে। একপর্যায়ে শনিবার ভোরে রত্না বেগম মারা যান।
ঘটনার পর নিহতের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিলে খবর পেয়ে অভয়নগর থানা পুলিশ হাসপাতালে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেয়।

এ বিষয়ে ফাতেমা (প্রাঃ) হাসপাতালের ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম বলেন, তিনি রাতে হাসপাতালে ছিলেন না। সকালে ভোরে রোগীর মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। ভুল অপারেশনের কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। এ বিষয়ে অপারেশনকারী চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক ও অপারেশনকারী চিকিৎসক ডা. মনজুরুল মোরশেদ বলেন, তিনি অপারেশন করার পর হাসপাতাল থেকে চলে এসেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীর রক্তচাপ কিছুটা বেড়েছিল। তার ধারণা, রোগী সম্ভবত স্ট্রোক করে মারা যেতে পারেন।

তবে রত্না বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় রোগীর ভর্তি-সংক্রান্ত নথি, অপারেশনের বিবরণ, অ্যানেসথেশিয়ার রেকর্ড, অপারেশন-পরবর্তী পর্যবেক্ষণের তথ্য, ওষুধের তালিকা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করা জরুরি। প্রয়োজনে ময়নাতদন্ত ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতের মাধ্যমেও মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা যেতে পারে।
আগেও রোগী মৃত্যুর অভিযোগ
নওয়াপাড়া ফাতেমা (প্রাঃ) হাসপাতালকে ঘিরে এর আগেও রোগী মৃত্যুর অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে ইতি বেগম (২২) নামে এক নারীর মৃত্যুর পর হাসপাতালটিকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। ওই ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠনের খবরও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এরপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একই হাসপাতালে আরেক রোগীর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলে যশোরের সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে ফাতেমা (প্রাঃ) হাসপাতালসহ দুটি প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের অপারেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে রত্না বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা, অপারেশন-পরবর্তী রোগী পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের স্বজনরা।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
নিহতের পরিবারের অভিযোগ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রত্না বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত নির্ণয় করা প্রয়োজন। এজন্য স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাসপাতালের চিকিৎসা নথি, অপারেশন ও অ্যানেসথেশিয়া সংক্রান্ত রেকর্ড, চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালন এবং অপারেশনের পর রোগীকে পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলো তদন্ত করা দরকার।
তাদের আরও দাবি, তদন্তে চিকিৎসাসেবায় কোনো অনিয়ম, গাফিলতি কিংবা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

একই সঙ্গে হাসপাতালটির অনুমোদন, চিকিৎসক ও নার্সের জনবল, অপারেশন থিয়েটারের সুযোগ-সুবিধা, অ্যানেসথেশিয়া ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতাও যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে রত্না বেগমের মৃত্যু ভুল অপারেশন, চিকিৎসায় অবহেলা, নাকি অন্য কোনো জটিলতার কারণে হয়েছে—তা চিকিৎসা নথি ও প্রয়োজনীয় তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যেও মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে স্ট্রোকের কথা বলা হয়েছে। ফলে অভিযোগের সত্যতা ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং চিকিৎসাবিষয়ক প্রমাণের ওপরই নির্ভর করতে হবে।
নিহতের পরিবারের দাবি, তারা রত্না বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চান এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা হয়ে থাকলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা চান।

এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলিমুর রাজিব জানান, ঘটনাটি জানার পর ওই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠ তদন্তের পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।