October 28, 2026, 8:01 pm
শিরোনাম :
চার জুটির চার রকম প্রেম, তিন নতুন মুখের অভিষেক নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ, সমর্থন জানাল ককরোচ পার্টি ১২৬৯ ভবনের মালিককে রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী, অথচ বসে থাকলেন তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষেরা আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়া গত্যন্তর নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিনস প্যান্ট ও অন্তর্বাসে পাচারের চেষ্টা, শাহজালালে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা আরব দলগুলোর চমক, তৈরি হতে পারে নেতানিয়াহুর বিদায়ের পথ ওজন কমানোর ওষুধে কমছে কসমেটিক সার্জারির চাহিদা পলাশবাড়ীতে এডিপির পৌনে ৩ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম তদন্তে কমিটি

সংখ্যালঘু ভোটে চোখ বিএনপি-জামায়াতের, কঠোর নিরাপত্তায় উপনির্বাচন

Reporter Name

রাজনীতি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে শেষ মুহূর্তে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন প্রার্থীরা। সদর উপজেলাসহ রুহিয়া ও ভূল্লী অঞ্চলের অলিগলিতে প্রচারের শেষ দিন পর্যন্ত প্রার্থীরা ব্যাপক শোডাউন ও গণসংযোগ করেছেন। স্থানীয় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সব মহলে এখন চলছে নানা সমীকরণ ও জল্পনা-কল্পনা। এই আসনের নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হবেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল।

এই উপনির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যেই মূল লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের পাল্লা ভারী বলে আলোচনা চলছে। প্রচারের শেষ দিনে বিএনপি প্রার্থী বিভিন্ন এলাকায় জনসভা করে তাঁর দলের অতীতের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেছেন এবং ভোটারদের সমর্থন চেয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থীও বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থীদেরও নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।

নির্বাচনী রাজনীতিতে এবার সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি করেছে সংখ্যালঘু ভোটারদের অবস্থান ও তাঁদের সমর্থন কোন দিকে যাবে তা নিয়ে। এই আসনে মোট পাঁচ লাখের বেশি ভোটারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়ায় সব দলই তাঁদের মন জয়ের চেষ্টা চালিয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোট ব্যাংক নিজেদের অনুকূলে রাখতে বিএনপি ও জামায়াত উভয় পক্ষই ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে। অতীতে এই অঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান থাকলেও এবার সেখানে জামায়াতও নিজেদের শক্ত ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা করছে। তবে সংখ্যালঘু ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থীকে বেছে নেন, তা কেবল ভোটের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন থেকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুরো নির্বাচনী এলাকায় একুশ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া স্পর্শকাতর ভোটকেন্দ্রগুলোতে ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি এবং কে-৯ ডগ ইউনিট ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের বিশেষ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের কড়া নজরদারির পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটাররা যাতে কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই নিরাপদে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে প্রশাসন।