October 28, 2026, 8:19 pm
শিরোনাম :
গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানেরও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই চার জুটির চার রকম প্রেম, তিন নতুন মুখের অভিষেক নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ, সমর্থন জানাল ককরোচ পার্টি ১২৬৯ ভবনের মালিককে রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী, অথচ বসে থাকলেন তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষেরা আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়া গত্যন্তর নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিনস প্যান্ট ও অন্তর্বাসে পাচারের চেষ্টা, শাহজালালে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা আরব দলগুলোর চমক, তৈরি হতে পারে নেতানিয়াহুর বিদায়ের পথ ওজন কমানোর ওষুধে কমছে কসমেটিক সার্জারির চাহিদা

রমজানের আগে নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি বেড়েছে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার আশা

Reporter Name

অর্থনীতি ডেস্ক: আসন্ন পবিত্র মাহে রমজান মাসকে সামনে রেখে দেশের বাজারে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি এবং ঋণপত্র খოლার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই পণ্যগুলোর আমদানি ও এলসি খোলার হার বেশি থাকায় আসন্ন রমজানে অতিরিক্ত চাহিদা সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বাজারে এসব পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় থাকবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপিত তথ্যে এই ইতিবাচক চিত্র উঠে আসে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় আসন্ন রমজানে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম কয়েকমাসে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশ খানিকটা বেড়েছে। বিশেষ করে রমজানের অন্যতম প্রধান ইফতার সামগ্রী ছোলার আমদানি ও এলসি খোলার পরিমাণে অনেক বড় উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর রেকর্ড পরিমাণে ছোলা ও ডাল আমদানির পাশাপাশি সয়াবিন তেল ও চিনির আমদানিতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একই সময়ে খুচরা বাজারে ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও মসুর ডালের দাম কিছুটা কমেছে এবং ভোজ্যতেল ও চিনির বাজারদর সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে। পোলট্রি খাতের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে খামারগুলোতে ডিম ও মুরগির উৎপাদন পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকায় এবং বড় কোনো রোগবালাই না থাকায় রমজানে এর সরবরাহে কোনো ঘাটতি হবে না।

রমজানের বাজারে পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে খেজুরের শুল্ক কাঠামো সহজ ও যৌক্তিক করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত খেজুরের জাত, মান ও মূল্যের তারতম্যের বিষয়টি বিবেচনা করে শুল্ক ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ করার তাগিদ দিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণ মানের খেজুরের ক্ষেত্রে প্রকৃত আমদানি মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শুল্কায়ন না হলে অযথা খরচ বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন এই শুল্ক জটিলতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় সাধনের প্রক্রিয়া চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাড়লেও স্থানীয় বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব রোধ করতে আমদানিকারক ও নীতিনির্ধারকরা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখার বিষয়ে সভায় কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ছোলা ও মসুর ডাল আমদানিতে কোনো শুল্ক-কর না থাকলেও চিনি ও ফল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সার্বিক প্রস্তুতি ও নজরদারি ঠিক থাকলে আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে না এবং ভোক্তারা স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।