October 28, 2026, 8:58 pm
শিরোনাম :
পুলিশের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ডাক গোলানের গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানেরও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই চার জুটির চার রকম প্রেম, তিন নতুন মুখের অভিষেক নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ, সমর্থন জানাল ককরোচ পার্টি ১২৬৯ ভবনের মালিককে রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী, অথচ বসে থাকলেন তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষেরা আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়া গত্যন্তর নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিনস প্যান্ট ও অন্তর্বাসে পাচারের চেষ্টা, শাহজালালে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

বাংলাদেশ-চীন করিডোর: নতুন সম্ভাবনার

Reporter Name

অর্থনীতি ডেস্ক: মানবসভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাসে বাণিজ্যপথ কেবল পণ্য পরিবহনের মাধ্যম ছিল না, বরং তা সভ্যতার বিকাশ ও সংস্কৃতির বিনিময়ের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আধুনিক বিশ্বে বন্দর, মহাসড়ক ও রেলপথকে কেন্দ্র করে যে ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাতে সংযোগই হলো অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন গবেষণায় অবকাঠামোগত সংযোগকে বাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্য ব্যয় হ্রাস এবং আঞ্চলিক মূল্যশৃঙ্খলে অন্তর্ভুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একটি দেশ কেবল ভৌগোলিকভাবে কোথায় অবস্থিত সেটাই যথেষ্ট নয়, বরং অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে দেশটি কতটা কার্যকরভাবে যুক্ত, তার ওপর তার অর্থনৈতিক সাফল্য নির্ভর করে।

বাংলাদেশের জন্য মিয়ানমারের ভূখণ্ড পেরিয়ে চীনের সঙ্গে স্থলপথে সংযোগ গড়ে তোলার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ভূ-অর্থনৈতিক কৌশল। বিশেষ করে চীনের ইউনান প্রদেশ, মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বাংলাদেশের চট্টগ্রামকেন্দ্রিক বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপিত হলে একটি নতুন অর্থনৈতিক অক্ষের জন্ম হতে পারে। এই বহুমুখী সংযোগের ফলে বাংলাদেশের জন্য কেবল চীনা বাজারে প্রবেশের পথ সুগম হবে না, বরং বাংলাদেশ নিজেও বৃহত্তর আঞ্চলিক উৎপাদন ও লজিস্টিকস নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারবে। তবে এই সম্ভাবনাকে কেবল একটি সাধারণ পরিবহন প্রকল্প হিসেবে দেখলে এর গভীরতা উপলব্ধি করা যাবে না।

একটি কার্যকর অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলার পেছনে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, কাস্টমস আধুনিকায়ন, উন্নত লজিস্টিকস এবং ডিজিটাল বাণিজ্য ব্যবস্থার মতো প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে এই যাত্রার সূচনা হলেও এর মূল ভিত্তি রচিত হয় যখন এর চারপাশে শিল্প উৎপাদন ও সেবার একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউনান প্রদেশ সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়ে আসছে। ফলে অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের উন্নয়ন এবং পরিবহন ব্যয় কমানোর জন্য বিকল্প সরবরাহপথ তৈরির প্রয়োজনীয়তা চীনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়ে আসছে।

এই কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চীন মিয়ানমারের কিয়াউকফিউ বন্দর ও বিভিন্ন সংযোগ প্রকল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে, যা বঙ্গোপসাগরের দিকে একটি সরাসরি প্রবেশদ্বার তৈরি করেছে। এই ভৌগোলিক ও ভূ-অর্থনৈতিক সমীকরণে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কুনমিং থেকে মান্দালয় হয়ে রাখাইন এবং সেখান থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত সড়ক ও রেল নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি একটি সম্পূর্ণ নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করবে। ফলশ্রুতিতে চট্টগ্রাম বন্দর কেবল জাতীয় আমদানি-রপ্তানির গণ্ডি পেরিয়ে একটি প্রধান আঞ্চলিক ট্রানজিট ও লজিস্টিকস হাবে রূপান্তরিত হতে পারে।