October 28, 2026, 9:51 pm
শিরোনাম :
মাও সে তুংকে নিয়ে রসিকতা, এমবাপ্পের জন্য চীনের কাছে ক্ষমা চাইল রিয়াল সাব-এজেন্টদের জবাবদিহি ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর গ্রেডিং প্রয়োজন ইংলিসের ব্যাটে লিড পেল অস্ট্রেলিয়া বীমা কোম্পানির সিএফও হতে লাগবে ৭ যোগ্যতা পুলিশের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ডাক গোলানের গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানেরও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই চার জুটির চার রকম প্রেম, তিন নতুন মুখের অভিষেক নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ, সমর্থন জানাল ককরোচ পার্টি ১২৬৯ ভবনের মালিককে রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা

বাংলাদেশি ওষুধ যাচ্ছে দেড় শর বেশি দেশে

Reporter Name

অর্থনীতি ডেস্ক: গত কয়েক দশকে দেশের ওষুধশিল্প খাতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে এবং বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ওষুধ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। শুধু দেশের চাহিদা মেটানোই নয়, বরং বিশ্ববাজারেও তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করছে বাংলাদেশি ওষুধ। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১৬২টি দেশে নিয়মিতভাবে জীবনরক্ষাকারীসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ রপ্তানি করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে এই খাতের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে এই রপ্তানির পরিমাণ ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত হবে। উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ উৎপাদনের জন্য দেশে বর্তমানে তিন শতাধিক নিবন্ধিত ইউনিট সক্রিয় রয়েছে। এর বাইরে ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক ওষুধ উৎপাদনের আরও পাঁচ শর বেশি প্রতিষ্ঠান সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। সাম্প্রতিক এক অর্থবছরে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রপ্তানি আয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। এর পরপরই শীর্ষ অবস্থানগুলোতে রয়েছে একমি ল্যাবরেটরিজ, নিপ্রো জেএমআই, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস এবং রেনাটার মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া এরিস্টোফার্মা, এসকেএফ, বীকন, হেলথকেয়ার ও জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস নিয়মিতভাবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠোর মানদণ্ডসম্পন্ন উন্নত দেশের বাজারেও এখন বাংলাদেশি ওষুধের প্রবেশ ঘটছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মেধাস্বত্বসংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা কাজে লাগিয়ে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে সাফল্য পেলেও, এই খাতের দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাঁচামাল বা এপিআই আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং গবেষণা ও উন্নয়নে সীমিত বিনিয়োগ এই শিল্পের বড় দুর্বলতা। এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর মেধাস্বত্ব সুরক্ষার বিশেষ সুবিধা হারালে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লড়াই আরও কঠিন হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ সাব্বির হায়দার মনে করেন, রপ্তানি আরও বাড়াতে হলে বাজারভিত্তিক গবেষণার পাশাপাশি দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষাগার বা ল্যাবরেটরি গড়ে তোলা জরুরি, যা বর্তমানে বিদেশ থেকে করাতে হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করতে নীতিগত সহায়তা ও সরকারি প্রণোদনার কার্যকর ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি ও ইনসেপ্টার চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির এবং মহাসচিব মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান উভয়েই মনে করেন, বিদেশি বাজারে ওষুধ নিবন্ধনের উচ্চ ব্যয় এবং কাঁচামাল আমদানির খরচ কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ঋণ ও ভর্তুকির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উৎপাদনের মান বজায় রাখা এবং বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর শর্ত সহজে পূরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন যে, রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে নিবন্ধন ও অনুমোদন প্রদান দ্রুত সম্পন্ন করার কাজ চলছে এবং টিকার রপ্তানি বাড়াতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ম্যাচুরিটি লেভেল-৩ অর্জনের জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।