October 28, 2026, 12:01 pm
শিরোনাম :
৫ বছরে এক কোটি মানুষ বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে কালো অধ্যায়: জামায়াত আমির স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙায় পাঠ্যবই মুদ্রণে বাঁচল ১৪ কোটি টাকা স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন হৃদয় এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের মেয়েদের সোনা জয়

ইরান কি হরমুজ প্রণালিতে গোপনে টোল আদায় করছে

Reporter Name

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেই ওই অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক সংঘাতের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে গত কয়েক মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল ফের স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। মার্চেন্ট ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান কেপলারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুদ্ধ শুরুর আগের রপ্তানি মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তেল সরবরাহ। তবে রপ্তানি বাড়লেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, যা নিয়ে জ্বালানি বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা ধরনের হিসাব-নিকাশ চলছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তেলের দাম চড়া থাকার পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে সম্ভাব্য পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা এবং জাহাজ চলাচলের অতিরিক্ত বিমা মাশুল। তবে এর বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন কেপলারের ঝুঁকি বিষয়ক প্রধান মিশেল ব্রোহার্ড। তাঁর দাবি, উপসাগরীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে তেল পারাপারের বিনিময়ে ইরানকে গোপনে বড় অঙ্কের অর্থ বা মাশুল দিচ্ছে। এই অনানুষ্ঠানিক টোল ব্যবস্থার কারণেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এর সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো মেলেনি।

এর আগে শিপিং সাময়িকী লয়েডস লিস্টের এক প্রতিবেদনেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, প্রণালির নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসি একটি গোপন টোল ব্যবস্থা চালু করেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এমন আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে যে, তেহরান এই জলপথে জাহাজ চলাচলের জন্য অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সমুদ্র আইন অনুযায়ী এ ধরনের শুল্ক আদায়ের কোনো আইনি বৈধতা নেই এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা এটিকে আনুষ্ঠানিক শুল্কের চেয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হারানোর সমস্ত দাবি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কমান্ডার আলী ফাদাভি দাবি করেছেন, মার্কিন সুরক্ষাবলয়ের মধ্য দিয়ে পরিবাহিত তেলের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য এবং হরমুজে তাদেরই আধিপত্য বজায় রয়েছে। তা সত্ত্বেও অঞ্চলটিতে ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি, কারণ সাম্প্রতিক সময়েও প্রণালি পার হওয়ার সময় কিছু ট্যাংকারকে ফিরিয়ে দেওয়ার বা সতর্ক করার ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে তাই এখনো গভীর সংশয় প্রকাশ করছেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাজার বিশ্লেষকেরা।