October 29, 2026, 3:58 am
শিরোনাম :
মাতারবাড়ী হয়ে ‘সেভেন সিস্টার্সে’র সঙ্গে সংযোগ জোরদার করতে চায় জাপান, যা বলল ভারত ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে, আবার সাগরে ছুটবে মাছ ধরার নৌকা গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নে ভারতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ: এএফপির প্রতিবেদন প্রাথমিকে শিক্ষকতায় প্রকৌশলী-চিকিৎসক–এমফিল-পিএইচডিসহ ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারীরা সরকারি দলের পক্ষে সমর্থনের অভিযোগ, ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সুলভ সরকারি এলপিজি কোথায় যায়, কারা পায় ব্যাংক খাত ঠিক হবে তো? ফ্রান্সসহ ইউরোপে বিক্ষোভের জন্য মুসলমানরা দায়ী! স্বাধীন বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংকট মঞ্চে আসছে নবরসের নতুন নাটক ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’

স্বাক্ষরেই থমকে আছে সংস্কার

Reporter Name

রাজনীতি ডেস্ক: রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর এবং গণভোটের রায় অর্জিত হওয়ার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সনদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের কথা বললেও, কার্যকর উদ্যোগের অভাবে জনমনে তৈরি হওয়া প্রত্যাশা ধীরে ধীরে অনিশ্চয়তায় রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং অনমনীয় মনোভাবের কারণে সংস্কারপ্রক্রিয়া বর্তমানে অনেকটাই থমকে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট নিরসনে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষকেই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। অন্যথায় রাজপথের আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে, যা সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে গঠিত বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ সংলাপ ও মতপার্থক্যের অবসান ঘটিয়ে গত বছরের শেষ দিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করে। পরবর্তীতে গণভোটে সাধারণ মানুষের রায় পক্ষে আসলেও সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই সনদের সব ধারা অক্ষরে অক্ষরে কার্যকর করা হবে। তবে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, বর্তমান প্রশাসন জনগণের প্রকৃত প্রত্যাশা ও গণভোটের রায়ের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের গঠিত বিশেষ কমিটিতে যোগ না দিয়ে বিরোধী দলগুলো রাজপথে আন্দোলন জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি, কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যদিকে, সরকার পক্ষের বক্তব্য হলো সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সব পক্ষের মতামত নিয়ে আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যেই সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করা সম্ভব। তবে বিরোধীদের বয়কটের মুখে এই প্রক্রিয়া কতটুকু ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল এবং পুলিশ কমিশন গঠনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান মনে করেন, জুলাই সনদ নিয়ে তৈরি হওয়া এই মতপার্থক্য দূর করার একমাত্র পথ হলো পারস্পরিক আলোচনা। সংসদের ভেতর থেকে সমঝোতার মাধ্যমে উভয় পক্ষকে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে বলে তিনি মত দেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংলাপের চেয়ে সংঘাতের পরিবেশই যেন বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রত্যাশা ছিল একটি কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, যা বর্তমানে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বলি হতে চলেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, আলোচনার পথ বন্ধ থাকলে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে।