October 28, 2026, 1:02 pm
শিরোনাম :
যে কারণে ২৫টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় শিফট স্থগিত করল সরকার টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে: নাহিদ ইসলাম ৫ বছরে এক কোটি মানুষ বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে কালো অধ্যায়: জামায়াত আমির স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব

সাংবাদিকদের জরিমানা করাসহ স্বপ্রণোদিত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা চায় প্রেস কাউন্সিল

Reporter Name

গণমাধ্যম ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনস্বার্থের পরিপন্থী সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা অর্জনের দাবি জানিয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে সম্প্রতি জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এই প্রস্তাব পেশ করে। তাদের মতে, বর্তমান ডিজিটাল ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে অপসাংবাদিকতা এবং ভুয়া খবর রোধ করতে ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করা জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রস্তাবিত সংস্কারে সাংবাদিকদের জন্য আর্থিক জরিমানার বিধান যুক্ত করার পাশাপাশি অনলাইন গণমাধ্যমগুলোকেও এই কাউন্সিলের আওতাভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ১৪টি প্রতিষ্ঠানের লিখিত প্রস্তাবের অংশ হিসেবে প্রেস কাউন্সিলের এই প্রতিবেদনটি সম্প্রতি সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়। সংস্থার সচিব মো. আবদুস সবুরের স্বাক্ষর করা ওই প্রতিবেদনে মোট ১৯টি নতুন এখতিয়ার ও ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাংবাদিকদের নিবন্ধন প্রদান, ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি প্রণয়ন এবং স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা বা হামলার ঘটনায় তদন্ত করে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যার ভিত্তিতে লেভি বা চাঁদা আদায়ের ক্ষমতা দেওয়ারও প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি।

তবে প্রেস কাউন্সিলের এমন উদ্যোগকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্তচিন্তার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আমলেও অনুরূপ আইন প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটেও এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি মনে করেন, প্রেস কাউন্সিলকে স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হলে তা বিচারিক প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর বড় ধরনের হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে। অতীতেও এই সংস্থাটি কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ এই প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংস্থাকে আধা বিচারিক ক্ষমতা বা স্বপ্রণোদিত আদেশ জারির এখতিয়ার দেওয়া বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যর্থ কোনো প্রতিষ্ঠানকে পুনরুজ্জীবিত করার চেয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় একটি স্বাধীন ও স্থায়ী কমিশন গঠন করা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত হবে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, অংশীজনদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়া একপক্ষীয়ভাবে এ ধরনের আইনি ক্ষমতা দেওয়া হলে তা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা হিসেবেই প্রতীয়মান হবে।